সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা প্রকাশ নিয়ে জট কাটল। নির্ধারিত সময়েই প্রকাশিত হবে বইটি। আগামী ১০ নভেম্বর বাজারে আসছে ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’। তবে প্রকাশক বদলে গিয়েছে। বইটি প্রথমে প্রকাশ করার কথা ছিল পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের। শেষ পর্যন্ত সেই জায়গায় এল হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া। বই প্রকাশের খবর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে হার্পার কলিন্স। প্রকাশকের দাবি, এটি দেশের অন্যতম প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা। বইটিতে সোনিয়ার ব্যক্তিগত জীবন এবং ভারতের রাজনীতির ভিতরের নানা অভিজ্ঞতা উঠে আসবে।
কেন পেঙ্গুইন সরে গেল?
বইয়ের প্রকাশনা নিয়ে শুরু থেকেই জল্পনা ছিল। সূত্রের দাবি, পাণ্ডুলিপির কিছু তথ্য নিয়ে আপত্তি ছিল পেঙ্গুইনের। সোনিয়ার লেখা কয়েকটি অংশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রকাশনা সংস্থাটি। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হননি সোনিয়া। শেষ পর্যন্ত পেঙ্গুইন বই প্রকাশ থেকে সরে দাঁড়ায় বলে সূত্রের দাবি। যদিও এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির চাপেই পেঙ্গুইন পিছিয়ে গেছে। দলের সমাজমাধ্যমে প্রকাশককে নিশানা করে একাধিক পোস্টও করা হয়। তবে পেঙ্গুইনের তরফে এই বিষয়ে কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
শেষ পর্যন্ত হার্পার কলিন্স
পেঙ্গুইন সরে যাওয়ার পর নতুন প্রকাশক খোঁজা শুরু হয়। সেই সময় প্রথম দিকেই আগ্রহ দেখায় হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। হার্পার কলিন্স জানিয়েছে, ১০ নভেম্বর ভারতের বাজারে বইটি প্রকাশ করা হবে। প্রকাশকের দাবি, বইটিতে ভারতের রাজনৈতিক যাত্রার একটি ব্যক্তিগত এবং অন্তরঙ্গ ছবি পাওয়া যাবে।
কী থাকছে সোনিয়ার বইয়ে?
‘বিলংগিং’ শুধু রাজনৈতিক স্মৃতিকথা নয়। এতে রয়েছে সোনিয়ার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায়ও। ইতালির একটি ছোট শহরে তাঁর শৈশব। পরে কেমব্রিজে পড়াশোনা। সেখানেই রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম। পরে বিয়ে। এর পর আসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অধ্যায়। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও থাকবে বইয়ে। ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর কী ভাবে তাঁর জীবন বদলে যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে। তারপর ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড। সেই সময়ের ব্যক্তিগত শোক এবং তার পর ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসার অভিজ্ঞতাও বইটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।
কেন প্রধানমন্ত্রী হননি সোনিয়া?
{{/usCountry}}‘বিলংগিং’ শুধু রাজনৈতিক স্মৃতিকথা নয়। এতে রয়েছে সোনিয়ার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অধ্যায়ও। ইতালির একটি ছোট শহরে তাঁর শৈশব। পরে কেমব্রিজে পড়াশোনা। সেখানেই রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম। পরে বিয়ে। এর পর আসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অধ্যায়। ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও থাকবে বইয়ে। ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর কী ভাবে তাঁর জীবন বদলে যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে। তারপর ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড। সেই সময়ের ব্যক্তিগত শোক এবং তার পর ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসার অভিজ্ঞতাও বইটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।
কেন প্রধানমন্ত্রী হননি সোনিয়া?
{{/usCountry}}সোনিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ২০০৪ সাল। সেই বছর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয় সোনিয়ার সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পদ গ্রহণ করেননি। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও বইটিতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে সোনিয়ার রাজনৈতিক জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কাহিনি জানতে বইটির দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
বিদেশে পেঙ্গুইনের সঙ্গে সম্পর্কই থাকছে?
আরও একটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ভারতে বইটি প্রকাশ করবে হার্পার কলিন্স। কিন্তু দেশের বাইরে বইটি প্রকাশ করবে আলফ্রেড এ. নফ। এই সংস্থার সঙ্গে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতে পেঙ্গুইন সরে গেলেও বিদেশে একই প্রকাশনা গোষ্ঠীর মাধ্যমে বইটি প্রকাশিত হবে। সব মিলিয়ে প্রকাশক বদলালেও বই প্রকাশের তারিখ বদলায়নি। ১০ নভেম্বরই প্রকাশিত হবে ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’। আর সেই বই ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল। কারণ ব্যক্তিগত স্মৃতির পাশাপাশি নেহরু-গান্ধী পরিবারের অন্দরমহল এবং ভারতের রাজনীতির বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও সামনে আসতে চলেছে।