ভারতের অন্যতম বড় অনলাইন বেটিং কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমানে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ওমান পুলিশ তাঁকে আটক করে। বর্তমানে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত সরকার। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সৌরভকে দেশে ফেরানো গেলে মহাদেব অনলাইন বেটিং মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, ভারতের তদন্তকারী সংস্থার অনুরোধে ইন্টারপোল যে রেড নোটিস জারি করেছিল, তার ভিত্তিতেই ওমানের রয়্যাল পুলিশ সৌরভ চন্দ্রকরকে আটক করেছে। যদিও ভারতীয় সংস্থাগুলি এখনও সরকারি স্তরে এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সৌরভ চন্দ্রকর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশের জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে ওমানে প্রবেশ করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারত ও ওমানের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় তাঁকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
সৌরভ চন্দ্রকর ২০১৯ সাল থেকেই পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রবি উপ্পলের সঙ্গে মিলে 'মহাদেব' নামে একটি বিশাল অনলাইন বেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। ওই বছরই দু'জন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে পালিয়ে যান। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই এখনও এই বেটিং চক্রের একটি বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগেও ২০২৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিসের ভিত্তিতে সৌরভকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁকে গৃহবন্দি রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রত্যর্পণের আবেদন কার্যকর হয়নি। ফলে তিনি মুক্তি পান। একইভাবে তাঁর সহযোগী রবি উপ্পলের বিরুদ্ধেও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে তদন্তকারীদের দাবি।
মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং ছত্তীসগঢ় পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের মাধ্যমে অনলাইনে পোকার, তাসের খেলা, ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্বাচনের ফল নিয়েও অবৈধ বাজি ধরা হত।
{{/usCountry}}মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং ছত্তীসগঢ় পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের মাধ্যমে অনলাইনে পোকার, তাসের খেলা, ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস, ব্যাডমিন্টন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্বাচনের ফল নিয়েও অবৈধ বাজি ধরা হত।
{{/usCountry}}ইডির অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এই বেটিং চক্র সারা দেশে অন্তত ৩,২০০টি বেটিং প্যানেলের মাধ্যমে কাজ করত। প্রতিদিন প্রায় ২৪০ কোটি টাকা লেনদেন হতো বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে। দুবাইয়ে এই ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রায় ২০টি ভিলা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৩,৫০০ কর্মী কাজ করতেন বলেও অভিযোগ।
এই মামলায় ছত্তীসগঢ়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের মতে, সৌরভ চন্দ্রকরকে ভারতে ফিরিয়ে আনা গেলে এই বহুচর্চিত বেটিং কেলেঙ্কারির আর্থিক লেনদেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।