ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মুখপাত্র সৌরভ দাসকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দিল্লির অভিজাত গ্রেটার কৈলাশ এলাকায় তাঁর ভাড়া নেওয়া বাড়ি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে একাধিক দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে সরাসরি দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন সৌরভ। একইসঙ্গে আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফলে বিতর্ক থামার বদলে আরও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েকজন ইউটিউবার এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, সৌরভ দাস দক্ষিণ দিল্লির গ্রেটার কৈলাশের একটি বিলাসবহুল বাংলোতে থাকেন। বিভিন্ন ভিডিওতে ওই বাড়ির ছবি ও অবস্থান দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে, বাড়িটির ভাড়া বছরে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। আবার কোথাও মাসিক ভাড়া ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই পরস্পরবিরোধী দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভিডিওগুলিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সৌরভ দাস কোনও চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি নিজেকে আরটিআই কর্মী ও আইনি অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। সেই পরিস্থিতিতে এত ব্যয়বহুল বাড়ির ভাড়া কীভাবে মেটানো হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ভিডিও নির্মাতারা। পাশাপাশি সিজেপির আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়েও নানা জল্পনা ছড়ানো হয়েছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়, বাড়ির মালিক বিদেশে থাকেন এবং ওই সম্পত্তির সম্পূর্ণ ঠিকানাও প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়। এমনকি ভিডিওতে এক ইউটিউবারকে বাড়ির প্রধান ফটক খুলে ভিতরে প্রবেশ করতেও দেখা যায়। এই ঘটনাকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন সৌরভ দাস।
ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। দিল্লি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগের একটি অনুলিপিও প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ইউটিউবার ও কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি বেআইনিভাবে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। এতে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই লঙ্ঘিত হয়নি, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
{{/usCountry}}ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। দিল্লি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগের একটি অনুলিপিও প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন ইউটিউবার ও কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি বেআইনিভাবে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। এতে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই লঙ্ঘিত হয়নি, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
{{/usCountry}}সৌরভ দাস আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে ভবিষ্যতে যদি কোনও অসামাজিক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট ইউটিউবারদেরই নিতে হবে। তিনি পুলিশের কাছে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সিজেপির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও এই ঘটনায় সরব হয়েছেন। তিনি এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে সিজেপির নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলন ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি এবং ইউএপিএ-সহ কঠোর ধারায় মামলা করার দাবি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সৌরভ দাসের বাসভবন ও আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে সিজেপি দাবি করছে, এটি তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কুৎসা প্রচারের অংশ। এখন দিল্লি পুলিশের তদন্ত ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।