বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে জল্পনার পারদ চড়েছে। দলের একাধিক সাংসদের দলত্যাগ এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে এবার দিল্লিতে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে দেখা গেল তৃণমূলের দুই প্রবীণ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়কে। তাঁদের সঙ্গে নড্ডার কথোপকথন ও একই টেবিলে উপস্থিতির ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। তবে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।

বুধবার সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জুন মালিয়া-সহ একাধিক সাংসদ সেখানে যোগ দেন। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়ও।
সেই বৈঠকেই বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহার বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয় বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সৌগত রায়কেও নড্ডার সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খেতে দেখা যায়। যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু কী ছিল, তা নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। দুই প্রবীণ তৃণমূল সাংসদও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে কারণ, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে ১৯ জন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এরপর তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতির আবেদন জানান। পাশাপাশি তাঁরা এনডিএ-র শরিক হিসেবে লোকসভায় আসন বরাদ্দেরও আবেদন করেন। সাংসদ সংখ্যার নিরিখে এনডিএ-র অন্যতম বড় শরিক হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে ওই দলের।
বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই বৈঠকে নতুন দলের প্রতিনিধিরা যোগও দেন। পরে আরও একটি বৈঠকেও এনসিপিআই-কে ডাকা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এনসিপিআই কি দীর্ঘমেয়াদে এনডিএ-র শরিক হিসেবেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে।
{{/usCountry}}বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেই বৈঠকে নতুন দলের প্রতিনিধিরা যোগও দেন। পরে আরও একটি বৈঠকেও এনসিপিআই-কে ডাকা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এনসিপিআই কি দীর্ঘমেয়াদে এনডিএ-র শরিক হিসেবেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে নড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়ের সাক্ষাৎকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংসদ ভবনে বিভিন্ন সর্বদলীয় বা বিষয়ভিত্তিক বৈঠকে বিভিন্ন দলের সাংসদদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাওয়া বা কথোপকথনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
তবুও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলে চলতে থাকা ভাঙন এবং সাংসদদের দলবদলের ধারাবাহিকতার মধ্যে এই ছবি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনাকে উসকে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে শত্রুঘ্ন সিনহা বা সৌগত রায় এই বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেন কি না, অথবা আগামী দিনে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানে কোনও পরিবর্তন ঘটে কি না। ততদিন পর্যন্ত এই সাক্ষাৎকে ঘিরে জল্পনা অব্যাহত থাকাই স্বাভাবিক।