...
...
Next Story

Sri Lanka-India Defence Pact: শ্রীলঙ্কার এয়ার ডিফেন্স শক্তিশালী করবে ভারত! রাজনাথের সফরে সই সামরিক চুক্তি

রাজনাথ সিংয়ের এই সফরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর দেশের মাটি কখনও এমন কোনও কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

Published on: Sep 10, 2026, 10:40:32 IST
Advertisement

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের শ্রীলঙ্কা সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনার এল-৭০ আকাশ প্রতিরক্ষা কামান আধুনিকীকরণ, সামরিক প্রশিক্ষণ ও আদানপ্রদান বাড়ানো এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াল ভারত। (PIB Photo Gallery)
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়াল ভারত। (PIB Photo Gallery)

রাজনাথ সিংয়ের এই সফরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও বৈঠক হয়। বৈঠকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর দেশের মাটি কখনও এমন কোনও কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

এল-৭০ কামান আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলির একটি হল শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনার এল-৭০ কামান আধুনিকীকরণ। এই কামান মূলত আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। ভারতের সহায়তায় পুরনো এল-৭০ কামানগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত করা হবে। এর ফলে শ্রীলঙ্কার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে ভারতীয় আধিকারিকদের দাবি। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ও বিনিময় বাড়বে

এল-৭০ কামানের পাশাপাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও বাড়ানো হবে। দুই দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সামরিক আধিকারিকদের মধ্যে কৌশলগত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। এ ছাড়া ভারতের ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস এবং শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুব বিনিময় কর্মসূচিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যও পৃথক সমঝোতা হয়েছে।

ভারতীয় সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা

রাজনাথ সিং এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট যৌথ ভাবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনটি বেইলি সেতুর উদ্বোধন করেন। এই সেতুগুলি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে শ্রীলঙ্কায় তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেতু নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে এই ধরনের বেইলি সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও ভারতীয় সহায়তা অব্যাহত থাকছে।

ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তায় জোর

পরে শ্রীলঙ্কার তিন বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় সমুদ্রপথের গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাজনাথ বলেন, নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং অবাধ নৌচলাচল শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত ও শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যেই যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। তবে আগামী দিনে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দেন রাজনাথ।

ভারতের কাছে শ্রীলঙ্কার কৌশলগত গুরুত্ব

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত স্বার্থও জড়িত। তাই শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি সেখানে নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থও নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকের ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিজের দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার আশ্বাস সেই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ।

সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

রাজনাথ সিংয়ের সফরের মাধ্যমে ভারত ও শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিক্ষা, যুব বিনিময় এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পথ খুলে গেল। ভারতের বার্তা স্পষ্ট, প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার সঙ্গে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই নয়, প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত সহযোগিতাকেও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী করতে চায় নয়াদিল্লি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks