...
...
Next Story

British police: ‘আমি নিঃশ্বাস...,' ভারতীয়র ছুরিকাঘাতে আহত কিশোরকে বিদ্রূপ-হাতকড়া, উত্তাল ব্রিটেন

British police: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় বর্ণবাদের অভিযোগ কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।’

Published on: Jun 3, 2026, 23:27:26 IST
Advertisement

British police: ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক শিখ যুবকের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত এক কিশোরকে হাতকড়া পরানোর ব্রিটিশ পুলিশের বডি-ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের এ ঘটনায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। জানা যায়, হামলাকারী ঘটনাস্থলে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তিনিই বর্ণবাদী হামলার শিকার। এদিকে, এই ঘটনা পুলিশি ত্রুটি, বর্ণবৈষম্য-সংক্রান্ত নীতি এবং সহিংসতা নিয়ে ব্রিটেনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভারতীয়র ছুরিকাঘাতে আহত কিশোরকে বিদ্রূপ-হাতকড়া (সৌজন্যে টুইটার)
ভারতীয়র ছুরিকাঘাতে আহত কিশোরকে বিদ্রূপ-হাতকড়া (সৌজন্যে টুইটার)

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৮ বছর বয়সি হেনরি নোয়াকের মৃত্যুর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় আসে সোমবার তার হত্যাকারীকে ন্যূনতম ২১ বছরের কারাদণ্ড-সহ যাবজ্জীবন সাজা দেয়ার পর। এরপরই সেই রাতের পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেনরি মাটিতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং পুলিশকে বলছেন যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তার কথায় গুরুত্ব দিচ্ছে না। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বিদ্রূপ করে বলেন, ‘ছুরিকাঘাত? আমার মনে হয় না বন্ধু।’ এরপর মুমূর্ষু হেনরিকে হাতকড়া পরানো হয়। তিনি বারবার ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’ বললেও পুলিশ কর্মকর্তারা কর্ণপাত করেননি। প্রতিবেদন অনুসারে, হত্যাকারী বিক্রম দিগওয়া (২৩) ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন শিখ ধর্মাবলম্বী, যিনি ঘটনার সময় পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তিনি নোয়াকের বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছেন। নোয়াক ছিলেন শ্বেতাঙ্গ।

দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর সাউদাম্পটনের একটি আবাসিক এলাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে দিগওয়ারের বক্তব্যই বিশ্বাস করেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা কোনও যাচাই ছাড়াই বিক্রমের কথার উপর ভিত্তি করে হেনরিকে গ্রেফতার করেন। আদালত অবশ্য নিশ্চিত করেছে যে, বর্ণবাদী হামলার কোনও ঘটনাই ঘটেনি, বরং বিক্রম মিথ্যে বলেছিলেন। এদিকে, এই ফুটেজ প্রকাশের পর মঙ্গলবার রাতে সাউদাম্পটনে কয়েক শ মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’ স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের দিকে চেয়ার, পাথর ও ফ্লেয়ার ছুড়ে মারেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বর্ণবাদের অভিযোগ কেন পুলিশকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্ররোচিত করল। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় বর্ণবাদের অভিযোগ কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।’ তবে সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুল তথ্য ও উস্কানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe