Mosquito breeding site detection technology: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গু, জিকা এবং চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই বিপদ মোকাবিলায় এবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন। তারা ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করার একটি সফল পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
প্রযুক্তির প্রয়োগ ও কার্যকারিতা

সাধারণত মশার প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা পায়ে হেঁটে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন। কিন্তু ঝোপঝাড়ের আড়ালে বা বাড়ির ছাদে পড়ে থাকা টায়ার বা পাত্র মানুষের চোখে অনেক সময় এড়িয়ে যায়। স্ট্যানফোর্ড গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ার মাকাসার (Makassar) শহরে তাদের এই ড্রোন প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে মানুষ অনেক প্রজনন ক্ষেত্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়, সেখানে ড্রোন এবং উন্নত এআই মডেল (U-Net++) প্রায় দ্বিগুণ নিখুঁতভাবে পরিত্যক্ত টায়ার এবং জমা জল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি ছায়া বা ঘন লতাপাতার নিচে লুকিয়ে থাকা পাত্রগুলোও এই প্রযুক্তির চোখ এড়াতে পারেনি।
কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
মশাবাহিত রোগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কার্যকরী চিকিৎসা বা সর্বজনীন ভ্যাকসিন না থাকায়, প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করাই হলো প্রতিরোধের প্রধান উপায়। স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জোয়েল রোসার বলেন, "আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশ ও মানুষের মিথস্ক্রিয়াকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।"
বিবর্তিত হচ্ছে মশার প্রজনন কৌশল
তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে এডিস মশা এখন এমন সব জায়গায় বংশবিস্তার করছে যা আগে ভাবা যায়নি। ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্গম এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। এতে অপারেশনাল খরচ যেমন কমছে, তেমনি মশা নিধন কার্যক্রম অনেক বেশি লক্ষ্যভেদী বা 'Targeted' হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
{{/usCountry}}তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে এডিস মশা এখন এমন সব জায়গায় বংশবিস্তার করছে যা আগে ভাবা যায়নি। ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্গম এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। এতে অপারেশনাল খরচ যেমন কমছে, তেমনি মশা নিধন কার্যক্রম অনেক বেশি লক্ষ্যভেদী বা 'Targeted' হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
{{/usCountry}}গবেষকরা কেবল টায়ার শনাক্তকরণেই থেমে নেই। তারা এখন মাল্টিস্পেক্ট্রাল ইমেজিং (Multispectral Imagery) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন, যা আবর্জনার ধরন দেখে বুঝতে পারবে কোন জায়গাটি মশার জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রযুক্তিটি কেবল ইন্দোনেশিয়ায় নয়, বরং আমেরিকা ও ইউরোপসহ সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রকৃতির খামখেয়ালি পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিই এখন প্রধান ভরসা। ড্রোন এবং এআই-এর এই মেলবন্ধন জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এর ফলে ভবিষ্যতে হয়তো আমরা মশাবাহিত মহামারিগুলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই রুখে দিতে সক্ষম হবো।