250000 US visas Revoked in Trump's presidency: ট্রাম্প জমানায় আমেরিকায় ভিসা বাতিলের সংখ্যা ২.৫ লক্ষ পেরিয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফতরের এক আধিকারিকের তথ্য উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই এই বাতিল প্রক্রিয়া চলছে। বিদেশ দফতরের দাবি, ভিসার নিয়ম ভাঙা, অপরাধে জড়ানো, জালিয়াতি, আমেরিকার বিরুদ্ধে হিংসার পক্ষে অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো নানা কারণে এই ভিসাগুলি বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিদেশিদের ওপর আরও কড়া নজরদারি এবং নিয়ম মেনে আমেরিকায় থাকা হচ্ছে কি না তা বার বার যাচাই করা। বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট এই সংখ্যাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভিসা পাওয়ার পরও একজন বিদেশি নিয়ম মেনে থাকছেন কি না তা খতিয়ে দেখার কাজ চলতে থাকে।
এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে একটি অংশ সরাসরি জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এমন ২৩০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ ছিল আমেরিকায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াই ছিল সফরের মূল উদ্দেশ্য। জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন সফরকে বোঝায়, যেখানে বিদেশি নাগরিক আমেরিকায় সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যান। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই এই ধরনের সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
শুধু জন্ম পর্যটন নয়, অপরাধের অভিযোগও ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ। বিদেশ দফতরের আগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অগস্ট মাসেই ১.৭৫ লক্ষের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে মারধর, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, যৌন হামলা, শিশু নির্যাতন, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ছিল। অর্থাৎ ভিসা বাতিলের বড় অংশই অপরাধ বা আইন ভাঙার সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এর পাশাপাশি আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। ভিসার শর্ত ভেঙে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি থাকা বা ভিসার অনুমতি যে কাজে দেওয়া হয়েছিল তার বাইরে অন্য কাজে যুক্ত হওয়ার ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশ দফতরের বক্তব্য, ভিসা কোনও স্থায়ী অধিকার নয়। নির্দিষ্ট শর্ত মেনে তা দেওয়া হয় এবং সেই শর্ত ভাঙলে তা বাতিল হতে পারে।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। ভিসার শর্ত ভেঙে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি থাকা বা ভিসার অনুমতি যে কাজে দেওয়া হয়েছিল তার বাইরে অন্য কাজে যুক্ত হওয়ার ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশ দফতরের বক্তব্য, ভিসা কোনও স্থায়ী অধিকার নয়। নির্দিষ্ট শর্ত মেনে তা দেওয়া হয় এবং সেই শর্ত ভাঙলে তা বাতিল হতে পারে।
{{/usCountry}}নজরদারি শুধু ভিসা হাতে পাওয়ার পর নয়, আবেদনের সময়ও বাড়ছে। ১ অক্টোবর থেকে আরও কিছু ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সোশ্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। বিদেশ দফতরের ঘোষণা অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কর্মী এবং কিছু বাণিজ্য ও পেশাগত ভিসার আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও এই যাচাই বাড়ানো হয়েছে। পড়াশোনা এবং অস্থায়ী কাজের মতো কয়েকটি ভিসা শ্রেণিতে এমন যাচাই আগেই চালু ছিল।
বাতিলের তালিকায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরের কিছু মানুষও রয়েছেন। ফক্স নিউজের খবর অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগে লাতিন আমেরিকার ২৭ জন আধিকারিক, প্রাক্তন আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা নিয়ে আমেরিকায় ঢোকার পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের বিষয়েও প্রশাসন আরও কঠোর ভাবে নজর দিচ্ছে। তবে এই সব ঘটনাকে ২.৫ লক্ষের একটি আলাদা শ্রেণি হিসেবে দেখানো হয়নি।
সব মিলিয়ে ২.৫ লক্ষের বেশি ভিসা বাতিলের এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বাড়তি নজরদারির চিত্রই তুলে ধরছে। তবে বিদেশ দফতর স্পষ্ট করেছে, এই সংখ্যা কোনও একটি ভিসা শ্রেণির নয়। নানা ধরনের বাতিলের হিসাব মিলিয়েই এই সংখ্যা তৈরি হয়েছে।