টানা আট সপ্তাহের পতনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে বাজার খুলতেই বাড়ল সেনসেক্স ও নিফটি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমা এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপিকে শক্তিশালী করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন পদক্ষেপে স্বস্তি পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে। বিদেশি লগ্নিকারীদের টানা বিক্রিও বাজারের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে। ফলে সোমবারের এই উত্থানকে আপাতত বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞেরা।
সোমবার সকালে বাজার খোলার পর সেনসেক্স ১৫০ পয়েন্টেরও বেশি বেড়ে ৭২,৬৩০.৪৩ পয়েন্টে পৌঁছয়। অন্য দিকে, নিফটি ৫০ বেড়ে দাঁড়ায় ২২,৫৭৫.৬৫ পয়েন্টে। সকাল ৯টা ২০ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী, সেনসেক্স বেড়েছিল ০.২১ শতাংশ এবং নিফটি ০.২৭ শতাংশ। ছোট সংস্থার শেয়ারগুলির সূচক বেড়েছিল ১.১ শতাংশ। মাঝারি সংস্থার শেয়ারগুলির সূচকেও ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যায়। তবে এগুলি বাজার খোলার পরের হিসাব। দিনের শেষে বাজার কোন জায়গায় দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী লেনদেনের উপর।
কেন চাঙ্গা বাজার?
বাজারের উত্থানের অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। সেই সঙ্গে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতার খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১.৫ থেকে ১.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। তবে দাম এখনও ১০০ ডলারের উপরে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ভারতের মতো যে দেশ অপরিশোধিত তেলের জন্য আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশি থাকা অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ায়। আমদানি খরচ বাড়লে ডলারের চাহিদাও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়ে টাকার দামে।
রুপিকে শক্তিশালী করতে কী পদক্ষেপ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের?
ডলারের তুলনায় টাকার দামে লাগাতার চাপ সামলাতে নতুন পদক্ষেপ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই। সোমবার থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের দৈনিক ডলারের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বাজারদরে এই তিন সংস্থাকে ডলার সরবরাহ করা হবে। ফলে তাদের ডলার কেনার জন্য সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে না।
{{/usCountry}}ডলারের তুলনায় টাকার দামে লাগাতার চাপ সামলাতে নতুন পদক্ষেপ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই। সোমবার থেকে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের দৈনিক ডলারের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বাজারদরে এই তিন সংস্থাকে ডলার সরবরাহ করা হবে। ফলে তাদের ডলার কেনার জন্য সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে না।
{{/usCountry}}এই তিন সংস্থার দৈনিক ডলারের চাহিদা সম্মিলিত ভাবে প্রায় ২০ কোটি ডলার হতে পারে বলে অনুমান। চাহিদার বড় অংশকে সরাসরি বাজার থেকে সরিয়ে রাখলে টাকার উপর চাপ কমতে পারে। পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে অনুমাননির্ভর ঝুঁকি কমাতেও নিয়ম কড়া করেছে আরবিআই।
তার প্রভাবও দেখা গিয়েছে টাকার দামে। সোমবার সকালে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকা ৯৪ পয়সা বেড়ে ৯৫.৭৭ টাকায় পৌঁছয়। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় ডলারের দাম ছিল ৯৬.৭৪ টাকা। অর্থাৎ, টাকার এই উত্থান আমদানিকারক সংস্থাগুলির জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই উন্নতি স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের চাহিদার উপর।
বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ
বাজারের সামনে এখনও বড় বাধা বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি। গত শুক্রবার বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারতীয় বাজারে প্রায় ৩,৫৬৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। টানা ১১টি লেনদেনের দিন ধরে চলছে এই বিক্রির প্রবণতা। উল্টো দিকে, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা শুক্রবার প্রায় ৪,৭৪৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। তাঁদের কেনাকাটাই বাজারকে কিছুটা সামলে রাখতে সাহায্য করেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এক দিনের উত্থান দেখে স্থায়ী ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তেলের দাম, রুপির গতিপ্রকৃতি এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের আচরণের উপর নজর রাখতে হবে। ফলে আপাতত স্বস্তি ফিরলেও শেয়ার বাজারের সামনে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।