কংগ্রেসের আসন বাড়াতে হলে কী করতে হবে? লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সাত দফা পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। আর সেই পরামর্শ ঘিরেই নতুন করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। রাহুলকে কটাক্ষ করে রিজিজু বলেছেন, ঘন ঘন গোপনে বিদেশ সফর বন্ধ করতে হবে। দেশের মাটিতে বেশি সময় কাটাতে হবে। শুধু তা-ই নয়, প্রবীণদের সম্মান করা থেকে শুরু করে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রতি বিদ্বেষ কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। সংসদকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সাংসদদের বিতর্ক ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এমনই সাতটি শর্তের কথা তুলে ধরেছেন মোদী সরকারের এই মন্ত্রী।

বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে রাহুলকে এই পরামর্শ দেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যদি সংসদে আরও বেশি আসন পেতে চায়, তা হলে প্রথমেই দলের নেতার আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে হবে। পোস্টে রিজিজু লেখেন, রাহুলকে আরও বেশি সময় ভারতে কাটাতে হবে। ঘন ঘন গোপনে বিদেশ সফর করা বন্ধ করতে হবে। প্রবীণ নেতাদের সম্মান করতে হবে এবং তাঁদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নিতে হবে। ভারতীয় ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে প্রবীণদের জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রিজিজুর পরামর্শের তালিকায় রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীকে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করতে হবে, যাঁদের তিনি ভারতবিরোধী বলে মনে করেন। সেই সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সমর্থন করা থেকেও বিরত থাকতে হবে বলে কংগ্রেস নেতাকে পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এখানেই শেষ নয়। বিজেপি, আরএসএস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রাহুলের তীব্র আক্রমণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা উচিত, শত্রু হিসেবে নয়। বিরোধিতা করা আর বিদ্বেষ ছড়ানো এক বিষয় নয় বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}এখানেই শেষ নয়। বিজেপি, আরএসএস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রাহুলের তীব্র আক্রমণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন রিজিজু। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা উচিত, শত্রু হিসেবে নয়। বিরোধিতা করা আর বিদ্বেষ ছড়ানো এক বিষয় নয় বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
{{/usCountry}}সংসদের কাজকর্ম নিয়েও রাহুলকে কটাক্ষ করেছেন রিজিজু। সংসদকে বিতর্ক ও আলোচনার জায়গা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী সাংসদদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সংসদের কাজকর্ম আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এ প্রসঙ্গে একটি পুরনো ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সংসদে রিজিজুর বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী সাংসদরা ওয়াকআউট করছেন। ভিডিয়োটি পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, যারা গণতন্ত্র এবং আলোচনায় বিশ্বাস করে না, তারাই আবার খোলামেলা বিতর্কের দাবি তুলছে।
রিজিজুর তালিকার বাকি দুটি শর্তও রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, রাহুলকে দেশের সংবিধানকে সম্মান করতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি কংগ্রেসকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করতে দিতে হবে। দলের মধ্যে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটানোর কথাও বলেছেন তিনি। কেন হঠাৎ রাহুলকে এমন সাত দফা পরামর্শ দিলেন রিজিজু? এর পিছনে রয়েছে মোদী ও রাহুলের মধ্যে প্রকাশ্য বিতর্কের দাবি ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত।
বুধবার ফের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর দাবি ছিল, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি প্রমাণ করে দেবেন যে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাসঘাতক। এর আগে মঙ্গলবারও বিদেশি সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় বসেছেন বলে অভিযোগ তুলে মোদীকে বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তিনি। রাহুলের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও।
সব মিলিয়ে, সংসদে আলোচনা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং পরিবারতন্ত্র, একাধিক বিষয়কে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন রিজিজু। রাহুলের বিতর্কের চ্যালেঞ্জের জবাবে তাঁর এই সাত দফা পরামর্শ শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।