ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এই আবহে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করবে বলে জানিয়েছে আমেরিকা। অপরিদকে ইরানের দাবি, এই নৌপথের ওপর এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ফের সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এই সবের মাঝে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, হরমুজ প্রণালীতে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আবারও বিশ্ব জুড়ে তেল সংকট দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, 'প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল সকাল ১০টা (মার্কিন পূর্ব উপকূলের সময়) থেকে ইরানের বন্দরগুলিকে অবরুদ্ধ করবে এবং ইরানের বন্দর থেকে বেরিয়ে আসা সকল জাহাজকে আটকে দেবে।' বিবৃতিতে বলা হয়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরীয় এলাকা থেকে প্রস্থানকারী বা প্রবেশ করা বাকি সব দেশের জাহাজগুলোর চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেবে না আমেরিকা। অবরোধ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই নিয়ে আরও তথ্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সমস্ত নাবিকদের ওমান উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে কাজ করার সময় ব্রিজ-টু-ব্রিজ চ্যানেল ১৬-এ মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইরান এবং আমেরিকা। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হিসেবে ইান বলেছিল, হরমজ প্রণালী দিয়ে যাতায়ত করা জাহাজগুলি থেকে তারা টোল সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক ভাবে ইরানের এই শর্তে আমেরিকা রাজি হয়েছিল বলেই মনে হয় ট্রাম্পের কথাবার্তায়। পরে যদিও তা নিয়ে বেঁকে বসেন তিনি। এদিকে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা আলোচনাও ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে অবিলম্বে অবরোধ চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী। এদিকে ইরানকে 'টোল' দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটকানো হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এদিকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার যে হুঁশিয়ারি আমেরিকা দিয়েছে, তার পালটা হুমকি হিসেবে ইরানের ইসলামি বিল্পবী গার্ড বাহিনী বলেছে, হরমুজে প্রবেশ করা সামরিক জাহাজকে 'দৃঢ় ও শক্তিশালী জবাব' দেওয়া হবে।