হরমুজ প্রণালীতে ফের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা। একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েতের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এমটি কাজিমাহ থ্রি। সেই জাহাজে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ওমানের প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পাঁচ ভারতীয়ই নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি।

শুক্রবার ওমানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় এমটি কাজিমাহ থ্রি প্রজেক্টাইলের আঘাতে আক্রান্ত হয়। পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর ভারতীয় মিশন দ্রুত উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত জাহাজে থাকা পাঁচ ভারতীয়কে নিরাপদে তীরে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এই কাজে সহযোগিতার জন্য ওমানের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
এমটি কাজিমাহ থ্রি একটি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বড় ট্যাঙ্কার। কুয়েতের পতাকার অধীনে চলা জাহাজটি টোগোর লোমে বন্দরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যাওয়ার সময়ই সেটি হামলার মুখে পড়ে। হামলার পর জাহাজে আগুন ধরে যায় বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ভাবে নজর রাখছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই অঞ্চলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ৪৫০০ এরও বেশি ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। এর মধ্যে ১২টি সক্রিয় কার্গো জাহাজে প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। ছয়টি জাহাজ ভারতীয় পতাকাবাহী এবং আরও ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ভারতগামী পণ্য বহন করছে।
ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশ মন্ত্রক এবং জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত মন্ত্রক নিয়মিত ভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাজিমাহ থ্রি থেকে পাঁচ ভারতীয়কে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সেই সমন্বয়েরই একটি উদাহরণ।
এর আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা কোনও ভাবেই বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঠেকাতে সংযম এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
এমটি কাজিমাহ থ্রির ঘটনায় পাঁচ ভারতীয় নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আগামী দিনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কী দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।