Strait of Hormuz: ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পরে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এর জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেলেও এখান দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। বরং বিশেষ কূটনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে ভারত নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সূত্রে দাবি, ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু জাহাজ এখনও ওই পথ ব্যবহার করে চলেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে না আনা কিছু কৌশল এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর মন্ত্রকের শিপিং ডিরেক্টর ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, ভারত ও ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি, তা খুব স্বাভাবিক কারণেই আপনাদের বিস্তারিতভাবে বলতে চাই না। আমরা মূলত বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এই সমন্বয় রক্ষা করি এবং বর্তমানে এভাবেই কাজ চলছে। অগ্রাধিকারের বিষয়টি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়। এরপর সেই সমন্বিত অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করে আমরা জাহাজগুলিকে সংকটপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করি। এদিকে কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এখনও ১৩টি ভারতের পতাকা যুক্ত জাহাজ হরমুজ প্রণালীর কাছে আটকে রয়েছে। এরমধ্যে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি ক্রুড তেলের ট্যাঙ্কার, একটি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার, তিনটি কন্টেনার শিপ, দুটি বাল্ক কেরিয়ার ও একটি ড্রেডগার আটকে আছে।
ইরান ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালীর উপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং যুদ্ধ শুরুর পর একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপও করেছে। এর ফলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ ওই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। তবুও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও এলএনজি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতমুখী হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাহাজগুলিকে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সীমিত রেখে চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি।
{{/usCountry}}ইরান ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালীর উপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং যুদ্ধ শুরুর পর একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপও করেছে। এর ফলে বহু বাণিজ্যিক জাহাজ ওই পথে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। তবুও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও এলএনজি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতমুখী হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাহাজগুলিকে ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সীমিত রেখে চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও অত্যন্ত বেশি।
{{/usCountry}}এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা চলছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ বজায় থাকবে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি এই অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল।