আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত কোনও ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না বলে দাবি করেছিল ইরান। সেই মতো একাধিক জাহাজে বিগত দিনে হামলা চালিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালী জুড়ে ইরান মাইন পুঁতে রেখেছে। তবে এরই মাঝে পাঁচটি 'বন্ধুরাষ্ট্রের' জাহাজকে হরমুজ দিয়ে যেতে দিচ্ছে ইরান। তার মধ্যে অন্যতম হল পাকিস্তান। এই আবহে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার গতকাল দাবি করেন, ইরান তাদের ২০টি জাহাজকে হরমুজ দিয়ে পাড়ি দিতে দিয়েছে। ইসহাকের সেই সংক্রান্ত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। এরপরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প আবার বলেন, ইরান আমাদের ২০টি বড় জাহাজে তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে দিয়েছে। এই আবহে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পাকিস্তান কি তবে আমেরিকার হয়ে তেল ফেরি করে নিয়ে আসছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে?

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকাকে ইরান 'বড় উপহার' দিয়েছে। প্রথমে তিনি সেই 'উপহার' কী, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। পরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান নাকি আমেরিকাকে ১০ ট্যাঙ্কার ভর্তি তেল দিয়েছে। আর গতকাল ইসহাক দার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ পোস্ট করে দাবি করেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ২০টি জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এরপরই ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ দিয়ে আমেরিকার ২০ ট্যাঙ্কার তেল যেতে দিয়েছে ইরান।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখন শুধুমাত্র ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক এবং পাকিস্তানের জাহাজকেই হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে দিচ্ছে ইরান।