বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহকে ব্যাহত হয়েছে ইরান যুদ্ধের আবহে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং করিডোর হরমুজ প্রণালীতে একের পর এক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই নিয়ে ফেলেছে ইরান। এই আবহে ইরান নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায় করার পরিকল্পনা করছে। এর জন্য নয়া আইন প্রণয়ন করতে পারে তারা। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট এই মর্মে একটি বিলের খসড়া তৈরি করছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি আবার বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধুমাত্র সেই সব দেশের জাহাজ বা ট্যাঙ্কারকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে, যে দেশগুলিকে ইরান নিজেদের বন্ধু বলে মনে করছে। তিনি ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫টি দেশের নাম নেন, যাদের জাহাজকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাড়ি দিতে দিচ্ছে। সেই পাঁচটি দেশ হল - ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক এবং পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত থমকে আছে ইরান যুদ্ধের আবহে। এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে এই অঞ্চলে। তবে ভারতের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে পাড়ি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসতে ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভারতের। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে বিভিন্ন দেশের শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ।
এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এই নিয়ে মার্কিন জ্বালানি সচিব দাবিও করেছিলেন, মার্কিন নৌসেনা নাকি একটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে গিয়েছে। তবে এরপর হোয়াইট হাউজ সেই দাবি খারিজ করে দেয়। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালী 'খোলার' জন্য ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশের সাহায্য চাইছেন।
{{/usCountry}}এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এই নিয়ে মার্কিন জ্বালানি সচিব দাবিও করেছিলেন, মার্কিন নৌসেনা নাকি একটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে গিয়েছে। তবে এরপর হোয়াইট হাউজ সেই দাবি খারিজ করে দেয়। এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার হরমুজ প্রণালী 'খোলার' জন্য ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশের সাহায্য চাইছেন।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। পরে গত ১৮ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে একটি জাহাজে ফের হামলা চালিয়েছিল ইরান। এখনও পর্যন্ত ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।