Iran War Latest Update: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল হরমুজ প্রণালী ঘিরে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। ঘটনাস্থল হরমুজ প্রণালীর কাছেই বলে জানা গিয়েছে। এই হামলার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি গত ২৪ ঘণ্টায় ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট বোটের মাধ্যমে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই হামলার প্রচেষ্টার জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পেন্টাগনের। আমেরিকার অভিযোগ, মার্কিন যুদ্ধবিমান এলাকায় টহল দেওয়ার সময় ইরানের তরফে একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ছোড়া হয়। পাশাপাশি ইরানের ড্রোন ও বোটগুলি সমুদ্রে মাইন পেতে রেখেছে মার্কিন জাহাজের জন্য।
অন্যদিকে আইআরজিসি এবং ইরানের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার এই হামলা সংঘর্ষবিরতি চুক্তির পরিপন্থী। এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকাকেই ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ইরানের দাবি, তারা একটি মার্কিন এমকিউ৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং একটি এফ৩৫ যুদ্ধবিমানকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
এদিকে যুদ্ধ থামাতে এখনও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সংঘাত শেষ করার জন্য একটি সমঝোতা খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক পথ আবার খুলে যেতে পারে। বর্তমানে সেই পথ বন্ধ রেখেছে ইরান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির জন্য উভয় পক্ষকে আরও ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী অবরোধ করে রাখা সহজ।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী অবরোধ করে রাখা সহজ।
{{/usCountry}}এদিকে এর আগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইরান এবং আমেরিকা। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হিসেবে ইান বলেছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়ত করা জাহাজগুলি থেকে তারা টোল সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক ভাবে ইরানের এই শর্তে আমেরিকা রাজি হয়েছিল বলেই মনে হয় ট্রাম্পের কথাবার্তায়। পরে যদিও তা নিয়ে বেঁকে বসেন তিনি। এদিকে শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা আলোচনাও ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে অবিলম্বে অবরোধ চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী। এদিকে ইরানকে 'টোল' দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটকানো হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেই মতো হরমুজের মুখে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহর। এই আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।