যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। কিন্তু তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। সমাবর্তনের মাঝেই তাঁরা আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান, ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান, শিস বাজান এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।

প্রতিবাদী পড়ুয়াদের অনেকের গলায় ছিল কেফিয়েহ, যা প্যালেস্তিনীয়দের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, স্নাতক পোশাক ও টুপি পরে বহু পড়ুয়া অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার সুন্দর পিচাইয়ের বক্তৃতার সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপ ও হুঁশিয়ারিমূলক স্লোগানও দেন।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও শান্তভাবেই নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান স্ট্যানফোর্ডের প্রাক্তনী সুন্দর পিচাই। বক্তৃতার শুরুতে তিনি বলেন, 'এটি আমার জীবনের মাত্র দ্বিতীয় সমাবর্তন ভাষণ। প্রথমটি আমি আমার বাড়ির পিছনের উঠোনে দিয়েছিলাম।' জানা গিয়েছে, ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ এবং ‘নো টেক ফর অ্যাপারথাইড’ নামে দুই সংগঠনের উদ্যোগে এই ওয়াকআউটের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, ইসরায়েলি সরকার, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং আইসিই-র সঙ্গে গুগলের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত চুক্তি মানবাধিকার প্রশ্নে বিতর্কিত।
বিশেষত ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ নামে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ও অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থা ইসরায়েল সরকারকে প্রযুক্তিগত পরিষেবা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা। সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক পড়ুয়া ‘পিপলস কমেন্সমেন্ট’ নামে বিকল্প এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন মাহমুদ খলিল, যিনি ২০২৪ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে ১০০ দিনেরও বেশি সময় আটক ছিলেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নিজের বক্তৃতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কোনও আলোচনা করেননি সুন্দর পিচাই। বর্তমানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ও কর্মসংস্থান সংকটের কারণে এআই নিয়ে পড়ুয়াদের উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই-এর প্রশংসা করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রযুক্তি জগতের একাধিক শীর্ষ কর্তা সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে সুন্দর পিচাই বলেছিলেন, তিনি নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখেন। তাঁর মতে, এআই-এর সমালোচক তরুণরাই ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির বিকাশ ও তার সামাজিক প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
{{/usCountry}}উল্লেখযোগ্যভাবে, নিজের বক্তৃতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কোনও আলোচনা করেননি সুন্দর পিচাই। বর্তমানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ও কর্মসংস্থান সংকটের কারণে এআই নিয়ে পড়ুয়াদের উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই-এর প্রশংসা করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রযুক্তি জগতের একাধিক শীর্ষ কর্তা সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে সুন্দর পিচাই বলেছিলেন, তিনি নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখেন। তাঁর মতে, এআই-এর সমালোচক তরুণরাই ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির বিকাশ ও তার সামাজিক প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
{{/usCountry}}