Tarun Tejpal: তেরো বছর আগের যৌন নির্যাতনের মামলায় ফের আইনি জটে তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। ২০১৩ সালের গোয়া যৌন নির্যাতন মামলায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের পর আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আবেদন শুনানির আগে তাঁকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে তীব্র সওয়াল-জবাব চলে। আদালত জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ করে প্রয়োজনীয় সারেন্ডার সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার পরই বম্বে হাইকোর্টের (Bombay High Court) রায়কে চ্যালেঞ্জ করে করা তাঁর আপিলের শুনানি করা হবে। এদিন বিচারপতি অলোক আরাধের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলাকালীন তরুণ তেজপালের আইনজীবী প্রবীণ অ্যাডভোকেট কপিল সিবাল দাবি করেন, যেহেতু বম্বে হাইকোর্ট ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছিল, তাই জামিন বা স্থগিতাদেশ না পাওয়া সত্ত্বেও আপিল শুনানির ক্ষেত্রে তেজপালের অবিলম্বে জেলে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কপিল সিবাল তেজপালের সমর্থনে আরও যুক্তি দেন যে, ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৩ সালে এবং তেজপাল এখন প্রবীণ নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, তেজপাল দীর্ঘ সময় ধরে জামিনে ছিলেন। সেই সময়ে তিনি কোর্টের সব নির্দেশ ফলো করেছেন। ফলে আপিলের শুনানি খুব দ্রুত হলে তার আগে কয়েক দিনের জন্য তাঁকে জেলে পাঠানোর বিশেষ কোনও বাস্তবিক উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি মেনে নেয়নি। অন্যদিকে, গোয়া সরকারের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আসামি আত্মসমর্পণ না করা বা সাজা স্থগিতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর আপিল আবেদন আদালতে বিবেচিত হতে পারে না। তেজপালের হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল অবশ্য গোয়া সরকারের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বম্বে হাইকোর্টই তেজপালকে আত্মসমর্পণের জন্য সময় দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে আপিলটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানিয়ে সিবাল বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া সময়সীমার কারণে তেজপাল সেই সময় পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার মধ্যে রয়েছেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, তেজপালকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং আদালতে 'সারেন্ডার সার্টিফিকেট' দাখিল করতে হবে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সার্টিফিকেট জমা পড়লে তবেই মামলার মূল গুনাগুণের ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বম্বে হাইকোর্টের রায়
বম্বে হাইকোর্ট ২০২১ সালের নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে গত ৬ অগস্ট তেজপালকে সশ্রম ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পাশাপাশি আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, বিচারের নামে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই নির্যাতিতাকে প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার লম্বা জেরার মুখোমুখি করিয়ে অপমান ও মানসিক হেনস্থা করেছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ায় ‘তেহেলকা’ আয়োজিত একটি উৎসব চলাকালীন লিফটের ভেতর জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২১ সালে গোয়ার নিম্ন আদালত প্রমাণের অভাবে তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভুল ধারণাভিত্তিক’ বলে তীব্র ভর্ৎসনা করে বম্বে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিম্ন আদালত ধরে নিয়েছিল যে একজন নির্যাতিতাকে বিশ্বাসযোগ্য হতে হলে তাকে 'নিখুঁত শিকার' (Perfect Victim) হিসেবে আচরণ করতে হবে, যা একেবারেই অনুচিত।
{{/usCountry}}বম্বে হাইকোর্ট ২০২১ সালের নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে গত ৬ অগস্ট তেজপালকে সশ্রম ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পাশাপাশি আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, বিচারের নামে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই নির্যাতিতাকে প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার লম্বা জেরার মুখোমুখি করিয়ে অপমান ও মানসিক হেনস্থা করেছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে গোয়ায় ‘তেহেলকা’ আয়োজিত একটি উৎসব চলাকালীন লিফটের ভেতর জুনিয়র সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২১ সালে গোয়ার নিম্ন আদালত প্রমাণের অভাবে তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। কিন্তু নিম্ন আদালতের সেই রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘ভুল ধারণাভিত্তিক’ বলে তীব্র ভর্ৎসনা করে বম্বে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিম্ন আদালত ধরে নিয়েছিল যে একজন নির্যাতিতাকে বিশ্বাসযোগ্য হতে হলে তাকে 'নিখুঁত শিকার' (Perfect Victim) হিসেবে আচরণ করতে হবে, যা একেবারেই অনুচিত।
{{/usCountry}}এবার আইনি লড়াই দুই তরফেই নতুন রূপ নিয়েছে। একদিকে তরুণ তেজপাল তাঁর সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন, অন্যদিকে গোয়া সরকারও শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সাজা বাড়ানোর দাবিতে। রাজ্য সরকারের যুক্তি, তরুণ তেজপালের এই অপরাধের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড অত্যন্ত কম এবং অপরাধের গুরুত্ব বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, ৬৩ বছর বয়সি তেজপাল নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা লাগল।