রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে আর মাত্র কদিন। তার আগে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন তথা এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এবং ডামাডোল বেড়েই চলেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় অফিসারদের প্রশিক্ষণ নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও আপত্তি শুনতে চাইল না সুপ্রিম কোর্ট। বরং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বিচার বিভাগীয় অফিসারদের নিয়ে এই সন্দেহ বাতিক বন্ধ হোক। ছোটখাটো অজুহাতে এই প্রক্রিয়া থামানো যাবে না।

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানায়, নির্বাচন কমিশন যে প্রশিক্ষণ মডিউল দিয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে কোনওভাবেই অগ্রাহ্য করতে পারে না। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, আদালতের নির্দেশ 'দিনের আলোর মতো স্পষ্ট'-কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা আগেই আদালত নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এই মামলায় তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে তাঁর সওয়ালে বলেন, আদালতের নির্দেশের পরেও নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগীয় অফিসারদের জন্য আলাদা নির্দেশিকা দিয়েছে, যেখানে কিছু নথি-যেমন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট-গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে বিচারকদের বা বিচারবিভাগীয় অফিসারদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আশঙ্কা খারিজ করে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'বিচার বিভাগীয় অফিসাররা জানেন কী করতে হবে। আমাদের নির্দেশ পরিষ্কার। অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।' আবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনই বা প্রশিক্ষণ দেবে না কেন? কিন্তু তারা আদালতের নির্দেশের ঊর্ধ্বে যেতে পারে না।' আদালত আরও জানায়, এসআইআর-এর কাজ দ্রুত শেষ করতেই বিচার বিভাগীয় অফিসারদের মোতায়েন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় আগেই ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারকদের আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না এ কথাও স্পষ্ট করে দেয় শীর্ষ আদালত। সব মিলিয়ে, এখন পরিষ্কার যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বিচার বিভাগীয় অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে কোনও সন্দেহ বা অজুহাতকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। এ ব্যাপারে ছুতোনাতাকে আমল দিচ্ছে না শীর্ষ আদালত।
উল্লেখ্য, এর আগের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন অসুবিধার কথা আদালতে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাজ্যে একাধিক মৃত্যুর বিষয়ও আদালতের নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই শুনানির পরেই সুপ্রিম কোর্ট তিনটি নির্দেশ দেয়।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, এর আগের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন অসুবিধার কথা আদালতে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাজ্যে একাধিক মৃত্যুর বিষয়ও আদালতের নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই শুনানির পরেই সুপ্রিম কোর্ট তিনটি নির্দেশ দেয়।
{{/usCountry}}