OBC Creamy Layer Determination: শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, কোনও প্রার্থীর বাবা-মায়ের সরকারি বা বেসরকারি খাতের চাকরির বেতন দেখে এটি নির্ধারণ করা যাবে না যে, ওই প্রার্থী ওবিসি-র ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত কিনা। যদি তিনি ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তিনি সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল, যেন ১১ মার্চের রায়টি কেবল ভবিষ্যতের নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হয়। সেই অনুরোধ খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, বর্তমানে যে প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং সেই অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ ও পদ নিশ্চিত করতে হবে। তবে আদালত এও স্পষ্ট করেছে যে, যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে সিনিয়রিটি বা পদোন্নতির বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে না। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে এই রায় বাস্তবায়নের জন্য আরও দুই মাস সময় দিয়েছে। মার্চ মাসে আদালত এ বিষয়ে কেন্দ্রকে ছয় মাসের সময় দিয়েছিল।
শুধুমাত্র বেতন দেখে ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়
‘ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বনাম রোহিত নাথান’ মামলায় আদালত রায় দিয়েছিল যে, কোনও প্রার্থীর বাবা-মায়ের সরকারি বা বেসরকারি খাতের চাকরির বেতন বা আয় দেখে তাঁদের ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা নির্ধারণ করা যাবে না। ১৯৯৩ সালের সরকারি নির্দেশিকা (অফিস মেমোরেন্ডাম) অনুযায়ী, নির্ধারিত আয় বা সম্পদের মাপকাঠির পাশাপাশি বাবা-মায়ের পদের মর্যাদা ও শ্রেণিবিভাগও বিবেচনায় নিতে হবে। সেই রায় পুনর্ব্যক্ত করে বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীরা ওবিসি-র ‘নন-ক্রিমি লেয়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই তাঁরা যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, সেখানে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
ভবিষ্যতের জন্য রায় কার্যকর করার আবেদন খারিজ
কেন্দ্রীয় সরকার আদালতের কাছে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে এই রায়টি কেবল ভবিষ্যতের নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, অতীত বা চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই রায় কার্যকর করলে এমন অনেক ব্যক্তি প্রভাবিত হতে পারেন, যাঁরা এই মামলার পক্ষভুক্ত নন। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আদালত রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি স্থগিত রাখার পক্ষে 'কোনও বিশ্বাসযোগ্য বা যুক্তিসঙ্গত কারণ' খুঁজে পায়নি। আদালত জানিয়েছে, তাদের সামনে থাকা প্রার্থীদের প্রতিকার প্রদান করলে তা অন্য কারও জ্যেষ্ঠতার (সিনিয়রটি) ওপর প্রভাব ফেলবে না কিংবা সম্পন্ন হয়ে যাওয়া নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুনরায় উন্মুক্ত করবে না। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং’-এর ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখের একটি চিঠির উল্লেখ করেছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ‘সিভিল সার্ভিসেস এক্সামিনেশন, ২০১৬’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বিচারাধীন আপিলগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
বিচারাধীন দাবিগুলোর নিষ্পত্তি স্বতন্ত্রভাবে করা হবে
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সরকার আদালতের কাছে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে এই রায়টি কেবল ভবিষ্যতের নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, অতীত বা চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই রায় কার্যকর করলে এমন অনেক ব্যক্তি প্রভাবিত হতে পারেন, যাঁরা এই মামলার পক্ষভুক্ত নন। এর ফলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আদালত রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি স্থগিত রাখার পক্ষে 'কোনও বিশ্বাসযোগ্য বা যুক্তিসঙ্গত কারণ' খুঁজে পায়নি। আদালত জানিয়েছে, তাদের সামনে থাকা প্রার্থীদের প্রতিকার প্রদান করলে তা অন্য কারও জ্যেষ্ঠতার (সিনিয়রটি) ওপর প্রভাব ফেলবে না কিংবা সম্পন্ন হয়ে যাওয়া নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুনরায় উন্মুক্ত করবে না। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং’-এর ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখের একটি চিঠির উল্লেখ করেছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ‘সিভিল সার্ভিসেস এক্সামিনেশন, ২০১৬’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বিচারাধীন আপিলগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।
বিচারাধীন দাবিগুলোর নিষ্পত্তি স্বতন্ত্রভাবে করা হবে
{{/usCountry}}আদালত বলেছে, একই পরিস্থিতিতে থাকা যেসব ব্যক্তির মামলা বিভিন্ন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারাধীন রয়েছে, তাদের দাবিগুলো স্বতন্ত্রভাবে ও গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। আদালত এসব দাবির বিষয়ে কোনও মতামত দেয়নি, তবে জানিয়েছে যে, ১৯৯৩ সালের অফিস মেমোরেন্ডাম এবং ২০০৪ সালের একটি চিঠির যে ব্যাখ্যা মার্চ মাসের রায়ে দেওয়া হয়েছিল, তা এই দাবিগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। বেঞ্চ আরও বলেছে, সংবিধান এবং আদালতের নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে সংরক্ষণ (রিজার্ভেশন) ও ‘ক্রিমি লেয়ার’ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার স্বাধীন। বিভিন্ন পদের মধ্যে সমতা নির্ধারণ বা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য কোনও সময়সীমা বেঁধে দিতে আদালত অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ, এসব বিষয় নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভার এখতিয়ারভুক্ত।