SIR Case Hearing: বৃহস্পতিবার বাংলার প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের বাসিন্দাদের একাংশ ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। কারণ, তাঁদের নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়। অনেকেই এখনও বিচারাধীন রয়েছেন। তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে কিনা, তার নিষ্পত্তির কাজ চলছে। কিন্তু অভিযোগ, নিষ্পত্তির কাজ চলছে ঢিমেতালে। শুক্রবার বাংলার এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে এমনই অভিযোগ করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। সেই মামলার শুনানিতেই ট্রাইব্যুনালে ঢিমেতালে কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদলতে তিনি বলেন, ‘২৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৩৬ জনের আবেদনের মীমাংসা হয়েছে।’ এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যান।’
এদিন বাংলার প্রথম দফার ভোট নিয়েও কিছুক্ষণ চর্চা হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এবার ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এটা ঐতিহাসিক।’ প্রথম দফার ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই বিচারপতিও। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি। মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।' তিনি আরও জানান, ভোটাররা যদি নিজের ভোটের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে তাঁরা হিংসায় জড়ান না। প্রথম দফার ভোট প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচীও মন্তব্য করেন, কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।' পাশাপাশি মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনাতেও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। কিন্তু এখনও চার্জশিট পেশ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের কাছে চার্জশিট পেশের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন এনআইএ-র আইনজীবী সূর্যপ্রকাশ ভি রাজু। তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চার্জশিট পেশের জন্য অতিরিক্ত সময়ও মঞ্জুর করেছেন বিচারপতিরা।