NALSAR students: হায়দরাবাদের নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-র (NALSAR University of Law) এক সময়ের আচার্য তথা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের ভূয়সী প্রশংসা করে 'মেধাবী', 'নির্ভীক' এবং 'সাহসী' বলে অভিহিত করেছেন।

নালসারের শিক্ষার্থীদের একাংশ তাদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ প্রস্তাবের বিরোধিতা করার কয়েক সপ্তাহ পর বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে এল; যা নিয়ে পরবর্তীতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। বিচারপতি ভুইয়াঁ নালসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-তে আয়োজিত ১৯তম 'নালসার-বিচারপতি বি আর সওহনি মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা'-র সমাপ্তী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি অতীতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তিনি 'ন্যায়সঙ্গতভাবেই গর্ববোধ' করতে পারেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিচারপতি ভুইয়াঁ বলেন, 'আপনারা দেশ এবং বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বিশেষ করে আইনের ছাত্রের ঠিক কেমন হওয়া উচিত। আপনারা অত্যন্ত মেধাবী। আপনারা নির্ভীক এবং আপনারা সাহসী।' পাশাপাশি তিনি নালসারের শিক্ষকদেরও প্রশংসা করে বলেন, 'আপনারা প্রশংসনীয়ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন; একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছ থেকে যা প্রত্যাশিত, আপনারা ঠিক সেটাই করেছেন।' উপাচার্য প্রফেসর শ্রীকৃষ্ণ দেব রাওয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিচারপতি ভুইয়াঁ বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত দক্ষভাবে পরিচালনা করেছেন। ‘লাইভ ল’ উদ্ধৃত শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বলেন, 'আমি আচার্য থাকাকালীনই প্রফেসর রাও উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। আমাকে বলতেই হবে যে তিনি প্রশংসনীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। তিনি শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী—কাউকেই হতাশ করেননি।' তবে প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিংবা পরবর্তীতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) পদক্ষেপ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি বিচারপতি ভুইয়াঁ।
ঘটনার সূত্রপাত
নালসার-এর ২০২৬ সালের স্নাতকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে পাঠানো ইমেলে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের আপত্তির কথা জানান। এরপর প্রধান বিচারপতিকে ডাকার বিরুদ্ধে এই প্রচারাভিযানে কারা ছিলেন, উপাচার্যের কাছে জানতে চান বিসিআই চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, নালসার-এর ২০২৬ সালের কোনও স্নাতক পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না।
{{/usCountry}}নালসার-এর ২০২৬ সালের স্নাতকদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং অধ্যাপকদের কাছে পাঠানো ইমেলে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের আপত্তির কথা জানান। এরপর প্রধান বিচারপতিকে ডাকার বিরুদ্ধে এই প্রচারাভিযানে কারা ছিলেন, উপাচার্যের কাছে জানতে চান বিসিআই চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, নালসার-এর ২০২৬ সালের কোনও স্নাতক পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না।
{{/usCountry}}দেশের বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। প্রতিবাদে সরব হয় ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি)। বিতর্কের জেরে পরে বিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বদল করা হচ্ছে। স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে বাধা নেই।তবে নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হলেও বার কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, নালসার-এর পড়ুয়া কিংবা অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না বার কাউন্সিল। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের করণীয় কিছু নেই বলেও জানানো হয়।
বিসিআই চেয়ারম্যানের ক্ষমা প্রার্থনা
ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষে আইন পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)-এর চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্র। স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া এক বিবৃতিতে মনন মিশ্র জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, যদি তাঁর কোনও কথা বা বার্তা শিক্ষার্থীদের মনে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে তিনি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। বিবৃতিতে বলা হয়, 'বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে জড়িত কোনও বিষয়, আমার কোনও কথা বা চিঠি যদি আমাদের আইন শিক্ষার্থীদের মনে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি।'