দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে আইনি টানাপোড়েন। এক দিকে প্রতিবাদের অধিকার, অন্য দিকে ব্যবসা ও জীবিকা রক্ষার প্রশ্ন। দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে CJP-র প্রস্তাবিত তিরঙ্গা মিছিলের জেরে ব্যবসার বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তবে শুক্রবারই এ বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষেরই সুবুদ্ধির উদয় হবে।
‘কেউ প্রতিবাদ করবেন, কেউ চিনাবাদাম বিক্রি করবেন’

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ব্যবসায়ীদের আবেদনটি ওঠে। সেই সময় আদালত জানায়, প্রতিবাদের জেরে বেআইনি ভাবে ব্যবসা ব্যাহত হলে হস্তক্ষেপ করা হবে। তবে আবেদনের শুনানি হবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা আশা করি, সবার সুবুদ্ধির উদয় হবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সময়ে বহু ছোট দোকানদার ব্যবসার উপর নির্ভর করে সংসার চালান। ব্যবসা ব্যাহত হলে তাঁদের পরিবারের উপরেও আর্থিক চাপ পড়ে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “কেউ প্রতিবাদ করতে চান, কেউ মুগফলি (চিনাবাদাম) বিক্রি করতে চান, কেউ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চান—সবই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।” অর্থাৎ, প্রতিবাদের অধিকার, সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং আইনশৃঙ্খলা—তিনটি বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
দিনে ২০০ কোটি টাকার ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা
দিল্লি কিরানা কমিটি এবং দিল্লি আয়রন অ্যান্ড হার্ডওয়্যার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই আবেদন জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে দিনে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে কনট প্লেসে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। অন্য দিকে, ১০ অক্টোবর থেকে প্রতিবাদ ঘিরে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি, আদালতে তা চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত ক্ষতি হিসেবে গণ্য হয়নি।
ব্যবসায়ীদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বড় বাজারগুলিতে যাতায়াত ও ব্যবসা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যিক এলাকার বাইরে প্রতিবাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিবাদের অধিকার, ব্যবসা, জীবিকা এবং গণপরিবহণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে হবে।
কেন প্রতিবাদে উত্তপ্ত দিল্লি?
{{/usCountry}}ব্যবসায়ীদের মূল দাবি তিনটি। প্রথমত, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বড় বাজারগুলিতে যাতায়াত ও ব্যবসা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যিক এলাকার বাইরে প্রতিবাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিবাদের অধিকার, ব্যবসা, জীবিকা এবং গণপরিবহণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে হবে।
কেন প্রতিবাদে উত্তপ্ত দিল্লি?
{{/usCountry}}ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে CJP। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আহ্বানে শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেফতারের প্রতিবাদও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিবাদের আশঙ্কায় নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লি পুলিশও ওই এলাকায় জমায়েত না করার আবেদন জানিয়েছে। পাল্টা CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয় না। বরং শহর বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা এবং মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ চাপানোর ফলেই ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সব মিলিয়ে, আদালতের সামনে এখন প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্ন। আপাতত কোনও তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।