Bofors Case Latest Update: প্রায় চার দশক ধরে ভারতের রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত দুর্নীতির মামলা হিসেবে পরিচিত বফর্স কেলেঙ্কারি। সেই বফর্স কেলেঙ্কারির আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল অবশেষে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের ২০০৫ সালের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শেষ অবশিষ্ট আপিলও খারিজ করে দেয়। এর ফলে বফর্স কামান কেনাকাটায় কথিত কমিশন বা ঘুষ সংক্রান্ত মামলার আইনি অধ্যায় কার্যত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ বিজেপি নেতা ও আইনজীবী অজয় কুমার আগরওয়ালের দায়ের করা আপিল খারিজ করে জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ঝুলে থাকা এই মামলায় আর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আদালত স্পষ্ট জানায়, তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের নিজস্ব আপিল আগেই খারিজ হয়ে যাওয়ার পর একজন ব্যক্তিগত আবেদনকারীর এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার যথার্থতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
শুনানির শুরুতেই অজয় আগরওয়াল আদালতের কাছে চার সপ্তাহ সময় চান। তাঁর যুক্তি ছিল, মামলার দুই মৃত অভিযুক্ত—শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা এবং গোপীচাঁদ পি হিন্দুজার নাম বাদ দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। বর্তমানে জীবিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রকাশ পি হিন্দুজা, যিনি ইউরোপে হিন্দুজা গ্রুপের চেয়ারম্যান।
তবে আদালত এই আবেদন মেনে নেয়নি। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, হিন্দুজা ভাইদের নিয়ে এই মামলা এখনও কেন চলছে? দিল্লি হাইকোর্ট তো সব কার্যক্রমই বাতিল করে দিয়েছিল। এত বছর পরে আর কী বাকি রয়েছে?
আগরওয়াল জানাতে চেষ্টা করেন যে সিবিআইয়ের পৃথক আপিল খারিজ হলেও তাঁর মামলায় তদন্তকারী সংস্থাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্থগিতাদেশের কোনও প্রশ্নই নেই। এটি ২০১৮ সালের মামলা। এরপরই আপিলটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের রায়ই বহাল
{{/usCountry}}আগরওয়াল জানাতে চেষ্টা করেন যে সিবিআইয়ের পৃথক আপিল খারিজ হলেও তাঁর মামলায় তদন্তকারী সংস্থাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্থগিতাদেশের কোনও প্রশ্নই নেই। এটি ২০১৮ সালের মামলা। এরপরই আপিলটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের রায়ই বহাল
{{/usCountry}}এই রায়ের মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্টের ৩১ মে, ২০০৫ সালের ঐতিহাসিক রায়ই বহাল থাকল। সেই সময় বিচারপতি আর. এস. সোধি হিন্দুজা ভাইদের বিরুদ্ধে সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে সুইডিশ অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এবি বফর্সকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রায়ে বিচারপতি সোধি সিবিআইয়ের তদন্তের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, দীর্ঘ তদন্তে সরকারি কোষাগারের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ হলেও কার্যকর কোনও ফল মেলেনি।
এর আগে ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের করা আপিলও সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়েছিল, দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে ৪,৫২২ দিনের অস্বাভাবিক বিলম্বের কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সিবিআই।
কী ছিল বফর্স কেলেঙ্কারি?
বফর্স বিতর্কের সূত্রপাত ১৯৮৬ সালের ২৪ মার্চ। ওই দিন ভারত সরকার সুইডেনের অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা এবি বফর্স-এর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ৪০০টি ১৫৫ মিমি হাউইটজার কামান কেনার ১,৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি করে।
১৯৮৭ সালের এপ্রিল মাসে সুইডিশ রেডিও দাবি করে, এই চুক্তি পাইয়ে দিতে ভারতের কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও প্রতিরক্ষা আধিকারিককে অবৈধ কমিশন বা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় ওঠে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খায়। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবেও এই কেলেঙ্কারিকে ধরা হয়।
তদন্তের পথচলা
১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে সিবিআই এফআইআর দায়ের করে। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন বফর্সের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মার্টিন আর্বদো, কথিত মধ্যস্থতাকারী উইন চাড্ডা এবং হিন্দুজা ভাইয়েরা। পরে ইতালীয় ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কোয়াত্রোক্কির নামও চার্জশিটে যুক্ত হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক অভিযুক্তের মৃত্যু এবং প্রত্যর্পণে ব্যর্থতার কারণে মামলার গতি শিথিল হয়ে পড়ে। ২০০৪ সালে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জে. ডি. কাপুর রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেন। ২০১১ সালে কোয়াত্রোক্কিকেও আদালত অব্যাহতি দেয়। তিনি ২০১৩ সালে মারা যান। উইন চাড্ডা, মার্টিন আর্বদো এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব এস. কে. ভাটনাগারও বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন প্রয়াত হন।
আইনি অধ্যায়ের ইতি
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের ফলে ২০০৫ সালের দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনও বিচারিক চ্যালেঞ্জ অবশিষ্ট থাকল না। প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারতের রাজনীতি, প্রশাসন এবং বিচারব্যবস্থায় আলোচিত বফর্স কেলেঙ্কারির আইনি পরিসমাপ্তি ঘটল এই রায়ের মাধ্যমে। তবে রাজনৈতিক ইতিহাসে বফর্স কেলেঙ্কারি এখনও ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল আলোচিত দুর্নীতির ঘটনা হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।