নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনওরকম কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। রাজ্যগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, পুলিশ চাইলে এফআইআর দায়ের করতে পারে, কিন্তু তদন্তের নামে কোনও ছাত্রকে গ্রেফতার বা অন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ আপাতত নেওয়া যাবে না।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। দিল্লির যন্তর-মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অপরাধমূলক মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই, অথচ আন্দোলনের সময় তাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। যদিও সেই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এদিন কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি আদালত।
আদালতে দায়ের হওয়া আবেদনগুলিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে, পেলেট গান এবং বৈদ্যুতিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আবেদনকারীদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪, ১৯, ২০ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, তার পরিপন্থী।
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, আদালতের সামনে যে অভিযোগগুলি এসেছে, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। সেই কারণেই ভবিষ্যতের তদন্তে কোনও প্রমাণ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
{{/usCountry}}মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, আদালতের সামনে যে অভিযোগগুলি এসেছে, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। সেই কারণেই ভবিষ্যতের তদন্তে কোনও প্রমাণ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
{{/usCountry}}দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনে ধারণ করা ভিডিও, পুলিশকর্মীদের বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং, ওয়্যারলেস যোগাযোগের তথ্য এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের (পিসিআর) সমস্ত নথি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই সমস্ত ডিজিটাল তথ্য কোনওভাবেই নষ্ট করা যাবে না।
একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার উপরও জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয় বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না। পুলিশকে এই তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনও অবস্থাতেই তা প্রকাশ্যে আনা যাবে না।
এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব এবং পুলিশ মহাপরিচালককে (ডিজিপি) হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৩ আগস্ট, সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
সব মিলিয়ে, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি ভূমিকা, বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং আন্দোলনকারীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইন মহল। শীর্ষ আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে আন্দোলন মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা ও নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।