...
...
Next Story

স্থায়ী কমিশন-পেনশন! মহিলা সেনা অফিসারদের জন্য যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, বছরের পর বছর ধরে 'বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন' (এসিআর)-এর মতো মূল্যায়ন সূচকগুলো এমন একটি পক্ষপাতদুষ্ট পূর্বধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হতো, যেন মহিলাদের পক্ষে কখনোই একটি দীর্ঘমেয়াদী পেশাজীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

Published on: Mar 24, 2026, 13:11:44 IST
Advertisement

সশস্ত্র বাহিনীতে লিঙ্গসমতার পথে বড় পদক্ষেপ। মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শর্ট সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) পাওয়া মহিলা অফিসাররা স্থায়ী কমিশন পাওয়ার অধিকারী। 'পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার' নিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এই রায় দিয়েছে। আর এই রায়কে যুগান্তরকারী বলে উল্লেখ করছেন অনেকে।

মহিলা সেনা অফিসারদের জন্য যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের (ANI Photo)
মহিলা সেনা অফিসারদের জন্য যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের (ANI Photo)

এদিন পদ্ধতিগত পক্ষপাতিত্ব ও লিঙ্গ বৈষম্যের সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের বৈষম্য মহিলাদের কেরিয়ার অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হলেও, আসলে তা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের ফল। ফলে মহিলা এসএসসিও-দের স্থায়ী কমিশন দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও বিঘ্ন ঘটবে না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, 'পুরুষ শর্ট সার্ভিস কমিশনের অফিসাররা আশা করতে পারেন না, কেবল তাঁরাই স্থায়ী কমিশনের জন্য যোগ্য। মহিলাদের স্থায়ী কমিশন থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি বৈষম্যমূলক।' মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া ও এন কে সিংয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা স্থায়ী কমিশন পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। বিদ্যমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।

শর্ট সার্ভিস কমিশনের অফিসারদের ১০ বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়, যা সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এই মেয়াদ শেষে, স্থায়ী কমিশন না পেলে তাদের পদত্যাগ করতে হয়। তারা সাধারণত পূর্ণ পেনশন সুবিধার জন্য যোগ্য হন না এবং তাদের কর্মজীবনের অগ্রগতি সীমিত থাকে, ফলে উচ্চতর কমান্ড পদে যাওয়ার সুযোগও কম থাকে। তবে এবার বড় স্বস্তি মিলেছে পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে। মামলার বিভিন্ন স্তরে যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, সেই মহিলা শর্ট সার্ভিস কমিশনড অফিসার ও সংশ্লিষ্ট হস্তক্ষেপকারীদের ক্ষেত্রে আদালত জানিয়েছে, তাঁদের ২০ বছরের পরিষেবা সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হবে। ফলে তাঁরা পেনশন সুবিধা পাবেন। তবে বকেয়া বেতন দেওয়ার দাবি খারিজ করা হয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব কর্মকর্তা বর্তমানেও চাকরিতে বহাল আছেন, তাঁরা তাঁদের অর্জিত গ্রেড বা মান, শারীরিক সক্ষমতা সংক্রান্ত শর্তাবলি এবং সততা ও শৃঙ্খলাজনিত ছাড়পত্র এই বিষয়গুলোর সাপেক্ষে 'স্থায়ী কমিশন' পাওয়ার অধিকারী হবেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe