টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের লড়াই জমে উঠেছে। একদিকে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার যখন প্যাট কামিন্সের ঢঙে আমদাবাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সেই মন্তব্যকে বিশেষ আমল দিতেই রাজি নন। বরং স্যান্টনারের ‘খামোশ’ করে দেওয়ার হুমকিকে সপাটে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে সূর্য জানালেন, একই স্ক্রিপ্ট বারবার শুনতে-শুনতে তিনি ক্লান্ত।
স্যান্টনারের হুঁশিয়ারি ও কামিন্স প্রসঙ্গ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেরদিন সাংবাদিক বৈঠকে মিচেল স্যান্টনার জানান যে ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সেই রণকৌশল অনুসরণ করতে চান। কামিন্স বলেছিলেন যে লক্ষাধিক ভারতীয় সমর্থককে চুপ করিয়ে দেওয়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা অন্য কিছুতে নেই। স্যান্টনারও ঠিক একই কথা বলে ভারতীয় শিবিরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, আমদাবাদে নীল সমুদ্রের মতো দর্শকদের শান্ত করে দিতে পারলেই অর্ধেক ম্যাচ জেতা সম্ভব।
সূর্যর পাল্টা: ‘সবাই একই লাইন মুখস্থ বলছে’
স্যান্টনারের এই মন্তব্য যখন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমারের কানে পৌঁছায়, তখন তিনি বেশ রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এর জবাব দেন। মুচকি হেসে সূর্য বলেন, ‘আজকাল দেখছি সবাই একই কথা মুখস্থ করে ঝাড়ছে। গত কয়েক মাস ধরে যারাই আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে, তারা কামিন্সের সেই ‘সাইলেন্স’ করার থিওরি আউড়াচ্ছে। কিন্তু আমদাবাদের মাঠ এবং আমাদের দর্শক এত সহজে শান্ত হওয়ার নয়।’
ভারতীয় অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি দর্শকরা আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি। তাঁরা কতটা গর্জন করবেন, সেটা আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে। আমরা স্রেফ ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। মাঠের পরিস্থিতি এবং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে টিম ইন্ডিয়া
{{/usCountry}}ভারতীয় অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি দর্শকরা আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি। তাঁরা কতটা গর্জন করবেন, সেটা আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে। আমরা স্রেফ ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। মাঠের পরিস্থিতি এবং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে টিম ইন্ডিয়া
{{/usCountry}}সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল একটা সময় টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে অজেয় হয়ে উঠেছিল। তবে বিশ্বকাপে সেই ধারায় ছেদ পড়েছে। তারইমধ্যে সূর্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কামিন্স যা করেছিলেন, সেটা অতীত। বর্তমান ভারতীয় দল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘মাঠে ১১ জন বনাম ১১ জন লড়াই হবে। মাঠের বাইরের কথা বাইরেই থাকুক। আমদাবাদের পিচ এবং গ্যালারির উন্মাদনা আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’
দুই শিবিরের স্নায়ুর লড়াই
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্যান্টনার ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম মন্তব্য করেছেন, যাতে ভারতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। কিন্তু সূর্যকুমারের এই সপ্রতিভ উত্তর বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভারতীয় ড্রেসিংরুম এখন অনেক বেশি ফুরফুরে মেজাজে আছে। সবমিলিয়ে ফাইনালের আগে দুই দলের এই বাকযুদ্ধ ম্যাচের আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে কিউয়িদের ‘সাইলেন্স’ করার মিশন, অন্যদিকে ‘স্কাই’-এর বিধ্বংসী মেজাজ— আমদাবাদে রবিবার এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে ক্রিকেট বিশ্ব।