নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে একাধিক বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। এবার একযোগে বাড়ানো হল বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ। এতদিন মাসে এক হাজার টাকা করে পাওয়া উপভোক্তারা এখন থেকে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত অগস্ট মাস থেকেই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হয়েছে। সেই বর্ধিত অর্থ সেপ্টেম্বরের পর্ব থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে বর্ধিত ভাতার অর্থও তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক ভাতার ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্তের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলে তৈরি সমস্ত ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে নতুন করে উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে সামাজিক প্রকল্পগুলির উপভোক্তা তালিকায় নানা ধরনের অনিয়ম ছিল। যোগ্যতার মাপকাঠি না মেনেও বহু নাম তালিকায় ঢুকেছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও এমন ব্যক্তিকেও স্বামীহীন ভাতা দেওয়া হয়েছে, যিনি আদৌ সেই ভাতার যোগ্য নন। এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো ওয়েটিং লিস্ট পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন করে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভার ওয়ার্ড এলাকায় দু’দিন ধরে এই শিবির চলবে। সেখানে গিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকৃত যোগ্যদের সামাজিক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ—এই তিন প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৮২ লক্ষ উপভোক্তা সুবিধা পাবেন। এর জন্য রাজ্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই টাকা পাঠানো হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে প্রকল্পের অর্থ সরাসরি যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং মধ্যস্থতার সুযোগ কমবে।
{{/usCountry}}সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ—এই তিন প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৮২ লক্ষ উপভোক্তা সুবিধা পাবেন। এর জন্য রাজ্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই টাকা পাঠানো হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে প্রকল্পের অর্থ সরাসরি যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং মধ্যস্থতার সুযোগ কমবে।
{{/usCountry}}সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মোট ৬১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩০ জন স্বামীহীন, বৃদ্ধ এবং দিব্যাঙ্গ ব্যক্তি এই ভাতার আওতায় রয়েছেন। জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই আরও ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই সংখ্যাও আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
তবে একইসঙ্গে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যোগ্য নাগরিকদের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যে তাঁদের আর এই ভাতার প্রয়োজন নেই, তাঁরা স্বেচ্ছায় সুবিধা ত্যাগ বা ‘সারেন্ডার’ করতে পারেন। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের জন্যও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি বর্তমান দেড় হাজার টাকার ভাতা ছেড়ে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন, তাহলে সেখানে মাসে তিন হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরনো তালিকা বাতিল এবং নতুন করে যাচাইয়ের এই সিদ্ধান্তে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে স্বচ্ছতা কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। কারণ সরকারের দাবি, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।