প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির সাজা শোনানোর পর থেকেই উত্তাল বাংলাদেশের পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশে এক সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

মহম্মদ ইউনুস যা বললেন:-
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বলেন,'আমরা বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে,তরুণ ও শিশু, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ, যা আমাদের আইন এবং সরকার,নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ,মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারকে আঘাত করেছে।'
দিকে দিকে অশান্তি
রায় ঘোষণার পর থেকে শেখ হাসিনার সমর্থক আওয়ামী লীগ এবং এর ছাত্র-যুব সংগঠনের সদস্যরা দেশজুড়ে প্রতিবাদ, মিছিল ও সহিংস বিক্ষোভে শুরু করেছে। অন্যদিকে, অন্তর্বতী সরকারের সমর্থক বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ এই রায়কে সমর্থন জানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে। পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটাচ্ছে শেখ হাসিনা ও পূর্বের সরকারের চিহ্ন রয়েছে এমন সব স্থানে। রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করতে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। সোমবার সন্ধেয় ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙার চেষ্টাও চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় সেই প্রচেষ্টা আটকানো সম্ভব হয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রতীকী ফাঁসি
শাহবাগে শেখ হাসিনার প্রতীকী ফাঁসির আয়োজন করেছে মৌলিক বাংলা নামের একটি সংগঠন। সোমবার সন্ধেয় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে শাড়ি পরানো নারীর মতো একটি কুশপুত্তলিকাকে জল্লাদের সাজে দুজন ধরে ফাঁসির মঞ্চে তোলেন। কুশপুত্তলিকার মুখে শেখ হাসিনার ছবিসহ পোস্টার লাগানো ছিল। এরপর সেটির মুখে কালো কাপড় পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকায় রুমাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট রুমাল ছেড়ে দেওয়ার পর জল্লাদের ভূমিকায় থাকা দুজন পুতুলটিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দেন।
কী বললেন শুভেন্দু
{{/usCountry}}শাহবাগে শেখ হাসিনার প্রতীকী ফাঁসির আয়োজন করেছে মৌলিক বাংলা নামের একটি সংগঠন। সোমবার সন্ধেয় জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে শাড়ি পরানো নারীর মতো একটি কুশপুত্তলিকাকে জল্লাদের সাজে দুজন ধরে ফাঁসির মঞ্চে তোলেন। কুশপুত্তলিকার মুখে শেখ হাসিনার ছবিসহ পোস্টার লাগানো ছিল। এরপর সেটির মুখে কালো কাপড় পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকায় রুমাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট রুমাল ছেড়ে দেওয়ার পর জল্লাদের ভূমিকায় থাকা দুজন পুতুলটিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দেন।
কী বললেন শুভেন্দু
{{/usCountry}}অন্যদিকে শেখ হাসিনার ফাঁসির সাজাকে বাংলার বিরোধী দলনেতা পাকিস্তানের নির্দেশ বলে উল্লেখ করলেন। তাঁর কথায়, ‘যারা আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এই রায় ঘোষণা করল, তাদের অবস্থা খারাপ হবে। পাকিস্তানের নির্দেশে এইসব হয়েছে।’ পাশাপাশি এই দিন শুভেন্দু বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেন। তাঁকে উদারচেতা বলে অভিহিত করেন বিজেপি বিধায়ক।