শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিমুক্তেশ্বরানন্দ, মুকুন্দনন্দ ব্রহ্মচারী এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার জন্য ঝুনসি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছে প্রয়াগরাজের বিশেষ পকসো আইন আদালত। শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে আদালত রিপোর্ট তলব করেছিল পুলিশের কাছে। আদালতের আদেশ মেনে প্রয়াগরাজের পুলিশ কমিশনার একটি রিপোর্ট দাখিল করেন আদালতে। এই রিপোর্টে শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ রিপোর্টে জানা গেছে যে তদন্ত চলাকালীন সাক্ষী এবং নির্যাতিত নাবালকদের বয়ানে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার সময় এক নির্যাতিত নাবালক প্রায় ১৪ বছর বয়সি ছিল এবং অপর এক নির্যাতিত নাবালকের বয়স ১৭ বছর ছিল। এর জেরে পকসো আইনের অধীনে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জানা গিয়েছে, নির্যাতিত নাবালকদের বয়ান ছাড়াও তদন্তের সময় বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া নির্যাতিত নাবালক এবং অভিযুক্তদের মেডিক্যাল পরীক্ষা, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা, মোবাইল লোকেশন ডেটা যাচাই করেও বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা থেকে প্রাথমিক ভাবে আঙুল উঠছে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের দিকে। এই আবহে প্রয়াগরাজ জেলার পকসো বিশেষ আদালতের বিচারক বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তাঁর শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে এফআইআর এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণ ট্রাস্ট এবং শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বরের সভাপতি আশুতোষ ব্রহ্মচারী, যে আশ্রমে কর্মরত ছিলেন, সেই আশ্রমের প্রধান স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৩(৪) ধারার অধীনে অভিযোগ দায়েরের জন্য প্রয়াগরাজ আদালতে একটি আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের শুনানি শেষে, ধর্ষণ এবং পকসো বিশেষ আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। আশুতোষ ব্রহ্মচারী অভিযোগ করেছিলেন যে, মাঘ মেলার সময়, একটি নাবালক এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক তাঁর কাছে এসে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ তোলে। তবে, শিশুটি এখন প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাকে নাবালক থাকাকালীন ধর্ষণ করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছিল যে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর শিষ্যরা তাদের গুরুর সেবা করার নামে এই শিশুদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়।
আশুতোষ ব্রহ্মচারীর মতে, ভুক্তভোগী শিশুদের বক্তব্য এবং গুরুতর ও দৃঢ় প্রমাণের ভিত্তিতে, তিনি প্রথমে ঝুনসি থানায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ মামলা দায়ের করতে অস্বীকার করলে তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর লালসার শিকার প্রায় ২০ জন নাবালকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন আশুতোষ ব্রহ্মচারী। এমনকী শুধু নাবালক নয়, অনের নারীও নাকি অভিমুক্তেশ্বরানন্দের লালসার শিকার হয়েছেন। নারীদের যৌন নির্যাতনের সিডিও রয়েছে বলে জানান আশুতোষ ব্রহ্মচারী। সেই সিডি তিনি আদালতে জমা করেছেন। অবশ্য, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এদিকে শঙ্করাচার্যের শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরি আদালতে ১০৪ পৃষ্ঠার একটি হলফনামাও দাখিল করেছেন।
{{/usCountry}}আশুতোষ ব্রহ্মচারীর মতে, ভুক্তভোগী শিশুদের বক্তব্য এবং গুরুতর ও দৃঢ় প্রমাণের ভিত্তিতে, তিনি প্রথমে ঝুনসি থানায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগ দায়ের করেছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ মামলা দায়ের করতে অস্বীকার করলে তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর লালসার শিকার প্রায় ২০ জন নাবালকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন আশুতোষ ব্রহ্মচারী। এমনকী শুধু নাবালক নয়, অনের নারীও নাকি অভিমুক্তেশ্বরানন্দের লালসার শিকার হয়েছেন। নারীদের যৌন নির্যাতনের সিডিও রয়েছে বলে জানান আশুতোষ ব্রহ্মচারী। সেই সিডি তিনি আদালতে জমা করেছেন। অবশ্য, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এদিকে শঙ্করাচার্যের শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরি আদালতে ১০৪ পৃষ্ঠার একটি হলফনামাও দাখিল করেছেন।
{{/usCountry}}