...
...
Next Story

স্ত্রীকে মারধরের সাজা মাত্র ১৫ দিনের জেল! তাও কেবল রক্তপাত হলে, গার্হস্থ্য হিংসা এবার বৈধ তালিবান শাসনে

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবান প্রশাসন দাবি করেছিল যে তারা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে নারীদের সুরক্ষা এবং আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে দেশটি কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে।

Published on: Feb 19, 2026, 16:22:35 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আফগানিস্তানে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী অধিকারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় গার্হস্থ্য হিংসা বা স্ত্রীকে মারধরের অপরাধে যে শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নগণ্য এবং বিতর্কিত বলে দাবি উঠেছে নানা মহলে।

স্ত্রীকে মারধরের সাজা মাত্র ১৫ দিনের জেল! তাও কেবল রক্তপাত হলে, গার্হস্থ্য হিংসা এবার বৈধ তালিবান শাসনে (AP)
স্ত্রীকে মারধরের সাজা মাত্র ১৫ দিনের জেল! তাও কেবল রক্তপাত হলে, গার্হস্থ্য হিংসা এবার বৈধ তালিবান শাসনে (AP)

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবান প্রশাসন দাবি করেছিল যে তারা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে নারীদের সুরক্ষা এবং আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে দেশটি কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বর্তমানে গার্হস্থ্য হিংসা বা স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের বিচার পাওয়া কেবল কঠিনই নয়, বরং শাস্তির বিধানও অত্যন্ত লঘু।

১৫ দিনের জেল এবং অদ্ভুত শর্ত

প্রতিবেদন অনুসারে, তালিবান প্রশাসনের বর্তমান বিচারিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো স্বামী তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মাত্র ১৫ দিনের জেল। তবে এই শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে এক অদ্ভুত ও অমানবিক শর্ত। অপরাধ প্রমাণিত হলেও শাস্তি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যদি মারধরের ফলে স্ত্রী শারীরিকভাবে 'জখম' হন বা তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো ক্ষত সৃষ্টি হয়। সাধারণ চড়-থাপ্পড় বা শারীরিক লাঞ্ছনা, যা শরীরের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে না, সেগুলিকে অপরাধের পর্যায়ভুক্ত করতেই অনীহা দেখাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

আইনি পরিকাঠামো ধ্বংসের পরিণাম

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরণের নমনীয় আইন আসলে অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদি কোনো নারী অভিযোগ করতে যান, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে উল্টো 'বিদ্রোহী' বা 'অশালীন' বলে চিহ্নিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সহিংসতার শিকার নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে উল্টো তাঁকে 'ঘর থেকে পালানোর' অভিযোগে কারাবন্দি করা হয়েছে। আইনি সুরক্ষার অভাবে আফগান নারীরা এখন ঘরের চার দেওয়ালে বন্দি অবস্থায় চরম অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ

ইউনাইটেড নেশনস (UN) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বারবার আফগানিস্তানের এই অমানবিক বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়ার পর এখন তাদের শারীরিক সুরক্ষাও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তালিবান তাদের এই কঠোর ও বৈষম্যমূলক অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে আফগানিস্তানে এক প্রজন্মের নারীরা সম্পূর্ণভাবে মানবিক অধিকারহীন অবস্থায় হারিয়ে যাবেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe