চেন্নাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্রি কাজগম (TVK) সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে কোটি কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তথাকথিত ষড়যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে 'প্রজেক্ট মেঘালয়'। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে চেন্নাই পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় এক প্রবীণ টেলিভিশন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার সূত্রপাত হয় টিভিকে-র উথানগারাই কেন্দ্রের বিধায়ক এন. এলাইয়ারাজার অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসু, যিনি আইপিডিএস (IPDS) নামে একটি জনমত সমীক্ষা সংস্থা পরিচালনা করেন, তিনি-সহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে দলীয় হুইপ অমান্য করে বিধানসভায় সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়, সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই বিধায়ক।
তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বরং 'প্রজেক্ট মেঘালয়' নামে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার মাধ্যমে টিভিকে-র প্রায় ১৫ জন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের মোটা অঙ্কের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে সরকারকে সংখ্যালঘু করে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, এর লক্ষ্য ছিল সদ্য নির্বাচিত বিজয় সরকারের পতন ঘটানো।
এই মামলার তদন্তে সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম 'পুধিয়া থালাইমুরাই'-এর প্রবীণ সাংবাদিক বিজয়নকে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। তদন্তে এমন কিছু বার্তা ও যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে দাবি পুলিশের। সেই কারণেই ১৫ ও ১৬ জুলাই তাঁকে ডেকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে চেন্নাই প্রেস ক্লাব। সংগঠনের অভিযোগ, সাংবাদিক বিজয়নকে গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরের দিনও তাঁকে ফের তলব করা হয়। প্রেস ক্লাবের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের সামিল এবং সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা।
{{/usCountry}}তবে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে চেন্নাই প্রেস ক্লাব। সংগঠনের অভিযোগ, সাংবাদিক বিজয়নকে গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরের দিনও তাঁকে ফের তলব করা হয়। প্রেস ক্লাবের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের সামিল এবং সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা।
{{/usCountry}}যদিও পুলিশের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই চলছে। কোনও ব্যক্তিকে পেশার কারণে নয়, বরং তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্যই মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এদিকে, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডিএমকের প্রাক্তন মন্ত্রী সেথিল বালাজি এবং তাঁর ভাই অশোককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। যদিও ডিএমকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যেই টিভিকে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। আইনি পথেই এই অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক—দুই মিলিয়ে 'প্রজেক্ট মেঘালয়' মামলা এখন দক্ষিণ ভারতের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।