ভারত সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। কিন্তু কবে যাবেন তিনি? এখনও তার কোনও উত্তর নেই। সফরের দিন-তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনা চলছে। উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ তৈরি হলেই সফর হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন হুমায়ুন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। জানান, আলোচনার দরজা এখনও খোলা রয়েছে। তবে এখনই সফরের দিন ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হয়েছিল, তারেক রহমান অবশ্যই ভারত সফর করবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ নিউ ইয়র্কে যাওয়ার আগে দিল্লি সফর করছেন না তারেক। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর কূটনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান তুলে ধরতে চান তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী সেখানে ‘নতুন বাংলাদেশের’ অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে যাবেন। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে।
সেই সফরকে ঘিরে আরও একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। যদিও বৈঠকটি এখনও চূড়ান্ত নয়। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এগোলে এমন সাক্ষাৎ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}সেই সফরকে ঘিরে আরও একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। যদিও বৈঠকটি এখনও চূড়ান্ত নয়। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এগোলে এমন সাক্ষাৎ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এই আবহেই সামনে এসেছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কোনও ঝুঁকির মুখে পড়বে না এবং অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও সীমিত হবে না।
তবে বাংলাদেশের সরকারের ভিতরে এ নিয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে এখনও শেষ কথা বলা হয়নি।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিদেশনীতি এখন একাধিক সমীকরণের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। এক দিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর চেষ্টা। অন্য দিকে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ। এর মধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ সামনে।
ফলে নজর এখন তারেক রহমানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে। ভারত সফরের দিন কবে ঠিক হয়, দিল্লির সঙ্গে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয় এবং মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকার সিদ্ধান্ত কী হয়—এই তিন প্রশ্নেই আপাতত কৌতূহল তৈরি হয়েছে।