ভারতের আমন্ত্রণে দিল্লি সফর এখনও হয়নি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে এবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তারেক রহমান। ৮১তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
এই সফর বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভারত-পাকিস্তান এবং ঢাকা-দিল্লি—দুই সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি ভারত সরকার জানিয়েছিল, তারেক রহমানকে দু’বার ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণে দিল্লি সফর করেননি এবং ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেননি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, তারেকের দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে দিল্লি এখনও বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনও নতুন তারিখ পায়নি।
এর মধ্যেই নিউইয়র্কে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠক নতুন করে কূটনৈতিক আগ্রহ তৈরি করেছে। পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা। এটি তাঁদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর অবশ্য শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর অবশ্য শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও নিউইয়র্কে একটি পার্শ্ববৈঠকের আয়োজন করা হবে। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার সুযোগ থাকছে ঢাকার সামনে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের সফরে। নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও তিনি যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়েও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, ভারতের আমন্ত্রণে দিল্লি সফর এখনও না হলেও রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে তারেক রহমানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক ঢাকার বিদেশনীতি নিয়ে নজর তৈরি করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশগ্রহণ এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে দিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী পদক্ষেপও এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।