তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর নাসিক অফিসে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এইচআর ম্যানেজার নিদা খান। তবে তাকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই নিদা খান নাকি বর্তমানে মুম্বাইয়ে রয়েছে এবং তাঁর পরিবারের দাবি নিদা খান সন্তানসম্ভবা। সেই যুক্তি দিয়েই নাসিকের এক আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছে নিদা।

এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিক ভাবে নিদা খান নাসিক অফিসে এইচআর প্রধান পদে ছিল না। সে টেলিকলার হিসাবেই সংস্থায় যোগ দিয়েছিল। এহেন নিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে একটি চক্রের হয়ে 'কর্পোরেট জিহাদ' চালাত। নিদা নাকি সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ।
উল্লেখ্য, নাসিকে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা এবং ধর্মান্তরিত করার অভিযোগের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার টিসিএস কর্মীরা হল- আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানি। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মীরা এফআইআর করেছেন এই ঘটনায়। অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে। সংস্থায় কর্মরত অভিযুক্তরা প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই তরুণীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বৈবাহিক জীবনের নানা সমস্যার কথা জেনে নিত। এরপর সেই তাদের সেই ব্যক্তিগত দুর্বল বিষয়গুলিকেই হাতিয়ার করা হত। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মহিলাদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল করা হত এবং ভয় দেখানো হত কিংবা প্রেমের ফাঁদে ফেলা হত। এরপর দিনের পর দিন ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থা চলত। তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত করা হত বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা কর্মীরা। পরে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্রেনওয়াশ করা হত তাঁদের।