TCS Sexual Harassment Case: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের নাসিক শাখার বিপিও সেন্টারে যৌন হেনস্থার মামলায় সামনে এল এক অভিযোগকারীর বয়ান। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যাসোসিয়েট হিসাবে সংস্থায় যোগদানকারী এক মহিলা কর্মচারী অভিযোগ করেন, শফি শেখ তাঁর সামনেই হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করা হয়েছিল এবং তাঁর শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছিল। এরই সঙ্গে শফির বিরুদ্ধে সেই মহিলা অভিযোগ করেন, কিপ্যাডে টাইপ করার অজুহাতে তাঁর স্তন স্পর্শ করেছিল সে।
এখনও পর্যন্ত ১২ জনেরও বেশি মহিলা এই মামলায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইন্ডিয়া টুডে'র একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এক নির্যাতিতা আবার অভিযুক্ত শফি শেখের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, একদিন শফি তাঁর পাশে বসে নিজের পা দিয়ে তাঁর পা ঘষতে শুরু করে। তার পাশে রাখা কিপ্যাড ব্যবহার করার অজুহাতে তাঁর স্তন স্পর্শ করে। তখন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর নাকি অভিযুক্ত শফি শেখ কেবল হাসতে হাসতে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে।
নির্যাতিতা বলেন, সংস্থায় যোগদানের কয়েক মাস পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি প্রশিক্ষণ সেশনের সময় এই হয়রানি শুরু হয়েছিল। নির্যাতিতা অভিযোগ করেছিলেন যে আসিফ আনসারি তার সামনে দাঁড়িয়ে তার বুকের দিকে তাকিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করত। আনসারি এবং তৌসিফ আত্তার উভয়ই প্রায়শই তার শরীর এবং চেহারা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করত। সেই মহিলা কর্মী বলেন, তৌসিফ আত্তার রামায়ণ এবং মহাভারতের উল্লেখ করে হিন্দু দেব-দেবী এবং ধর্মীয় গ্রন্থ সম্পর্কে অত্যন্ত অশ্লীল এবং অবমাননাকর মন্তব্য করত। অফিসের পরিবেশকে ভীতিকর বলে বর্ণনা করেন সেই নির্যাতিতা। এদিকে নির্যাতিতার দাবি, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার স্তরের অফিসাররা কর্মীদের অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত করত এবং অভিযুক্তদের সুরক্ষা দিত। উল্লেখ্য, বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত অপারেশন ম্যানেজার অশ্বিনী চৈনানি সহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তাররা অন্যতম। এই মামলায় নবম অভিযুক্ত নিদা খান মুম্বাইয়ে রয়েছেন। আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
{{/usCountry}}এখনও পর্যন্ত অপারেশন ম্যানেজার অশ্বিনী চৈনানি সহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তাররা অন্যতম। এই মামলায় নবম অভিযুক্ত নিদা খান মুম্বাইয়ে রয়েছেন। আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
{{/usCountry}}১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মীরা এফআইআর করেছেন এই ঘটনায়। অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে। দাবি করা হয়েছে, সংস্থায় কর্মরত অভিযুক্তরা প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই তরুণীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বৈবাহিক জীবনের নানা সমস্যার কথা জেনে নিত। এরপর সেই তাদের সেই ব্যক্তিগত দুর্বল বিষয়গুলিকেই হাতিয়ার করা হত। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মহিলাদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল করা হত এবং ভয় দেখানো হত কিংবা প্রেমের ফাঁদে ফেলা হত। এরপর দিনের পর দিন ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থা চলত। তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত করা হত বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা কর্মীরা। পরে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্রেনওয়াশ করা হত তাঁদের।