‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুবকদের ভয় পাচ্ছেন।’ দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে এই মন্তব্য করেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ বার রাজধানীতে পা রাখতেই আটক করা হল তাঁকে। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছন অভিজিৎ। বিমান তখনও দাঁড়িয়ে। সেই সময়েই বিমানের ভিতরে ঢুকে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ নিজেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতাকে আটকের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে অভিজিতের বিমান অবতরণের পরেই সেখানে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। বিমানের ভিতরে ঢুকে তাঁকে আটক করা হয়। সেই সময় ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন অভিজিৎ। ভিডিয়োয় দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা বিমানে ঢুকতেই তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিজিৎ প্রশ্ন করেন, যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে যাওয়ার পর তাঁকে আটক করা যেত না কেন? পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁকে গ্রেফতার করতে চাইলে করতে পারে পুলিশ। তিনি ভয় পান না। তাঁর সঙ্গে থাকা দলের অন্য দুই সদস্যকেও আটক করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। তাদের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দলের অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার দায় নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল বা সংস্কার এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরানোর দাবিও জানিয়েছে দলটি।
বিক্ষোভের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করছিলেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা গণতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যুবকদের প্রতিবাদ আটকানোর চেষ্টা করছে সরকার। গ্রেফতার বা আটক করা হলেও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}বিক্ষোভের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করছিলেন অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা গণতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, যুবকদের প্রতিবাদ আটকানোর চেষ্টা করছে সরকার। গ্রেফতার বা আটক করা হলেও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
{{/usCountry}}এ দিকে, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বসানো হয়েছে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার কথা জানানো হলেও পরে সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করা হয়। বাতিল করা হয়েছে একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় সাময়িক ভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের আগেই গুরুগ্রামে নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও। এ বার বিমানের ভিতর থেকে অভিজিৎকে আটক করার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এক দিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে অনড় সিজেপি, অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। সব মিলিয়ে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত রাজধানী।