Bengaluru Techie: বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পেলে কী ভারতে সাজানো জীবন ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত? এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটের (Reddit) দ্বারস্থ হলেন বেঙ্গালুরুর এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। রেডিটের 'r/developersIndia' ফোরামে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে নিজের বর্তমান বিকল্প পথগুলির কথা তুলে ধরে তিনি জানতে চেয়েছেন, 'আমি কী লন্ডনের ৬০,০০০ ব্রিটিশ পাউন্ডের চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত, নাকি বেঙ্গালুরুতেই থাকব?'

চল্লিশের কোঠার শুরুর দিকে থাকা ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি সার্ভিস-ভিত্তিক কনসালটেন্সি সংস্থায় মিড-লেভেল ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত। ট্যাক্স কাটার পর প্রতি মাসে তাঁর হাতে আসে প্রায় ২.১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও তিনি প্রায় ২.৩ কোটি টাকা সঞ্চয় করেছেন।
ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা ও লন্ডনের নতুন সুযোগ
তবে বর্তমান সংস্থায় বড়সড় কর্মী ছাঁটাই চলছে এবং আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তাঁর চাকরি চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন অফার সম্পর্কে তিনি জানান, লন্ডনের একটি মাঝারি মাপের ব্যাঙ্কে অ্যানালিটিক্স পদে চাকরির সুযোগ এসেছে তাঁর সামনে; যার বার্ষিক বেতন ৬০,০০০ ব্রিটিশ পাউন্ড (প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা)। কাগজে-কলমে বেঙ্গালুরুর চেয়ে এই পদে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বেশি মনে হলেও, ব্রিটেনে গিয়ে নতুন করে শুরু করার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু ঝুঁকি। ওই কর্মী লিখেছেন, 'লন্ডনের এই চাকরিতেও যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। কারণ প্রথম পর্বে লন্ডনের ব্যাঙ্কিং চাকরি অত্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে থাকে। নতুন পরিবেশে আমি ঠিকমতো মানিয়ে নিতে না পারলে ছ'মাসের মধ্যে চাকরি হারানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।'
তিনি আরও বলেন, 'এই বয়সে এসে আমি অবসর গ্রহণের কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছি। বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ি না থাকায় এখানে অবসর জীবন কাটানো বাস্তবে সম্ভব নয়। ফলে আগে হোক বা পরে, আমাকে কোনও টিয়ার-২ শহরে সরে যেতেই হবে।' এরপরই তিনি নেটিজেনদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, 'আমার বর্তমান আর্থিক অবস্থা, কোনও নির্ভরশীল না থাকা, দুটি কাজেরই চরম অনিশ্চয়তা, লন্ডনের আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচ এবং ছ'মাসের মধ্যে চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আমার কী লন্ডনের অফারটি গ্রহণ করা উচিত, নাকি বেঙ্গালুরুতেই থেকে যাওয়া উচিত?'
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, 'এই বয়সে এসে আমি অবসর গ্রহণের কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছি। বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ি না থাকায় এখানে অবসর জীবন কাটানো বাস্তবে সম্ভব নয়। ফলে আগে হোক বা পরে, আমাকে কোনও টিয়ার-২ শহরে সরে যেতেই হবে।' এরপরই তিনি নেটিজেনদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, 'আমার বর্তমান আর্থিক অবস্থা, কোনও নির্ভরশীল না থাকা, দুটি কাজেরই চরম অনিশ্চয়তা, লন্ডনের আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচ এবং ছ'মাসের মধ্যে চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আমার কী লন্ডনের অফারটি গ্রহণ করা উচিত, নাকি বেঙ্গালুরুতেই থেকে যাওয়া উচিত?'
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
{{/usCountry}}পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একাধিক ডেভেলপার ও চাকুরিজীবীরা এই নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করেছেন, যা কার্যত দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কমেন্ট বক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'বছরে ৬০ হাজার পাউন্ড বেতনে লন্ডনের মতো শহরে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।' অন্য এক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে লেখেন, 'আমি লন্ডনের কাছের একটি শহর থেকে যাতায়াত করি। ৬০ হাজার পাউন্ডের জন্য এই ঝুঁকি নেবেন না। আপনার জীবনসঙ্গীও যদি চাকরি করতে চান এবং দেশ ছাড়ার তীব্র তাগিদ থাকে ও কোনও সঞ্চয় না হলেও চলে, তবেই কেবল এটা বিবেচনা করা যায়; নয়তো এর কোনও মানে হয় না।'
তবে এর বিপরীত সুরও শোনা গেছে অনেকের মুখে। তৃতীয় এক ব্যক্তি তাঁকে ইতিবাচক পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, 'আমার মনে হয় আপনার এই সুযোগটি গ্রহণ করা উচিত। আপনি যেহেতু অবসরের কথাও ভাবছেন, তাহলে বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা একবার নিয়েই দেখুন না কেন! কোনও টিয়ার-২ শহরে অবসর কাটানোর মতো যথেষ্ট সঞ্চয় যদি আপনার থেকে থাকে, তবে নিশ্চিন্তে এগিয়ে যাওয়া যায়।'