রাত পোহালেই আরও এক ২২ এপ্রিল। ২০২৫ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে চলেছিল পাকিস্তানি সন্ত্রাসী হামলা। মুহূর্তে রক্তাক্ত হয় ভূস্বর্গ। সেই ২২ এপ্রিলের আগে, চলতি বছরে দেশের একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা ক্রমেই আঁটোসাটো হতে শুরু করেছে। তারই মাঝে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইর অপরাধী মডিউলের পর্দাফাঁস করেছে। ঘটনা ঘিরে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, দিল্লিতে গ্রেনেড হামলা ও টার্গেট কিলিং ঘিরে কিছু নাশকতার ছক ছিল আইএসআইএর অপরাধী মডিউলের। এক্ষেত্রে পাকিস্তানে বসে থাকা কুখ্যাত গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টির নাম উঠছে। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান থেকে নেটওয়ার্ক চালানো শেহজাদের ইশারায়, দিল্লি ও এনসিআর ঘিরে গ্রেনেড হামলা, ফায়ারিং, টার্গেট কিলিং-র জন্য কিছু যুবককে কাজ করানো হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের জালে ২১ ও ১৯ বছর বয়সী যুবক রাজবীর ও বিবেক বঞ্জারাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাকিস্তানে বসে আইএসআই, দিল্লি-এনসিআর-এ হামলার ছক কষছে। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ সালে সেই ইনপুট আসে দিল্লি পুলিশের কাছে। এরপর থেকে শুরু হয়ে যায় তদন্ত। তদন্তে নেমে ১৬ এপ্রিল বিবেককে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়ারের ডাবরা থেকে পুলিশ পাকড়াও করে। এরপর শুরু হয় জেরা। পরে ১৮ এপ্রিল রাজবীর পুলিশের জালে ধরা পড়ে। রাজবীরকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, পাকিস্তান থেকে তারা নির্দেশ পেত দিল্লিতে বড় হামলা করার। এরপর পুলিশ এই দুজনের ডেরা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে। পিস্তল, গুলি ছাড়াও ডিজিটাল কিছু প্রমাণ পুলিশ পায়, যেখানে তারা পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডেলারদের ভূমিকার হদিশ পায়।
এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি জানান যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, স্পেশাল সেল তথ্যদাতাদের কাছ থেকে খবর পেয়েছিল যে, পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং অন্যান্য আইএসআই এজেন্টরা ভারতে তাদের কিছু সহযোগীর সঙ্গে মিলে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকায় গ্রেনেড হামলা ও টার্গেট কিলিং চালানোর জন্য একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করছিল।
{{/usCountry}}এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে স্পেশাল সেলের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি জানান যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, স্পেশাল সেল তথ্যদাতাদের কাছ থেকে খবর পেয়েছিল যে, পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং অন্যান্য আইএসআই এজেন্টরা ভারতে তাদের কিছু সহযোগীর সঙ্গে মিলে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকায় গ্রেনেড হামলা ও টার্গেট কিলিং চালানোর জন্য একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করছিল।
{{/usCountry}}শেহজাদ ভাট্টি কে?
পাকিস্তানে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসাবে শেহজাদ ভাট্টির নাম রয়েছে। এর আগে, পর্তুগালে শেহজাদ ভাট্টিকে খুন করার জন্য ভারতের লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং তৎপর হয়েছিল। সেই সময় পর্তুগালে, শেহজাদ যেখানে ছিল,সেই বাড়িতে হামলা হয় বলেও খবর আসে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই খবর ছিল, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-র 'ডান হাত', শেহজাদ, ভারতে তার গ্যাংরে কলেবর বাড়াচ্ছে। পাচারচক্রে সিদ্ধহস্ত এই শেহজাদ। মাদক, অস্ত্র পাচারে পাকিস্তানের অন্যতম কুখ্যাত নাম সে। আন্তর্জাতিক সংযোগকে কাজে লাগিয়ে, পাকিস্তানের সীমান্ত পার করে শেহজাদ তার চক্র চালায়। তার অন্যতম বিপক্ষ শিবির হল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।