...
...
Next Story

Tharoor Vs Chidambaram on BRICS: ব্রিকসে ভারতের সুফল খুঁজে পাননি চিদম্বরম, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শশী থারুর

দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের আগে গোষ্ঠীটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে থারুর বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য ব্রিকস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাঁর দাবি, বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি দেশ বিশ্বের জনসংখ্যার বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪১ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত।

Published on: Sep 11, 2026, 12:53:47 IST
Advertisement

Tharoor Vs Chidambaram on BRICS: ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই এবার ভিন্ন সুর। এক দিন আগেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছিলেন, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনগুলি থেকে ভারতের ‘বাস্তব লাভ’ কোথায়। তার পরের দিনই দলীয় সাংসদ শশী থারুর বললেন, ব্রিকস ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্বের মঞ্চে দেশটির ‘ডিপ্লোম্যাটিক কনভেনিং পাওয়ার’-এর প্রমাণ।

ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই এবার ভিন্ন সুর।
ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই এবার ভিন্ন সুর।

দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের আগে গোষ্ঠীটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে থারুর বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য ব্রিকস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাঁর দাবি, বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি দেশ বিশ্বের জনসংখ্যার বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪১ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই মঞ্চকে ছোট করে দেখার কোনও সুযোগ নেই।

‘ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের প্রমাণ’

শশী থারুরের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন ভারতের জন্য শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বা মর্যাদার বিষয় নয়। এতগুলি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধানকে এক জায়গায় নিয়ে আসার ক্ষমতা ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি পর্যবেক্ষক হিসেবে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও সম্মেলনে আসছেন। তাঁদের একসঙ্গে দিল্লিতে নিয়ে আসতে পারা ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বিশ্বের মঞ্চে এই ক্ষমতার নিজস্ব মূল্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চিদম্বরমের সঙ্গে মতপার্থক্য কোথায়?

চিদম্বরম আরও জানিয়েছিলেন, ভারত ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, জি২০ এবং কোয়াডের মতো একাধিক বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীর অংশ। কিন্তু এই সব মঞ্চ থেকে দেশ ঠিক কী বাস্তব সুবিধা পেয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

চিদম্বরমের এই মন্তব্যের পর বিজেপি তাঁকে কটাক্ষ করে। বিজেপির অভিযোগ, দেশের অগ্রগতি মেনে নিতে না পারা ‘নারাজ ফুফা’দের মতো আচরণ করছেন কংগ্রেসের কিছু নেতা।

ব্রিকসের চ্যালেঞ্জও স্বীকার থারুরের

তবে ব্রিকস নিয়ে শুধু প্রশংসাই করেননি থারুর। বরং গোষ্ঠীটির অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির কথাও স্পষ্ট করে তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এতগুলি দেশের মধ্যে সব আন্তর্জাতিক বিষয়ে একমত হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কোনও সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবর্তে ভারতের সভাপতিত্বে একটি ‘চেয়ারম্যানস ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হয়েছিল।

থারুরের মতে, এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ব্রিকসের জন্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হতে পারে। এমনকি এর ফলে গোষ্ঠীটির মধ্যে মৌলিক মতবিরোধ কতটা গভীর, সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। তাই মতপার্থক্য সামলে ঐকমত্যে পৌঁছনোই ভারতের কূটনীতিকদের সামনে বড় পরীক্ষা।

ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও উদ্বেগের

ব্রিকসের আরও একটি বাস্তব সমস্যা নিয়ে সতর্ক করেছেন থারুর। তাঁর বক্তব্য, গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও ভারতের পক্ষে সবসময় তা লাভজনক হচ্ছে না। বরং ব্রিকস দেশগুলিতে ভারতের রফতানি কমছে এবং আমদানি বাড়ছে। এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কংগ্রেসের দুই মত

সব মিলিয়ে ব্রিকস নিয়ে একই দলের দুই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। চিদম্বরম যেখানে জানতে চাইছেন, ব্রিকস থেকে ভারতের হাতে বাস্তবে কী এসেছে, সেখানে থারুর মনে করছেন এই গোষ্ঠী ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করছেন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য ব্রিকসের বড় দুর্বলতা।

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে তাই শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির নয়, দেশের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, দিল্লির সম্মেলন শেষ হওয়ার পর ভারত সত্যিই কতটা কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভ ঘরে তুলতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks