PM Modi govt achievements: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ যাত্রাপথকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারতের শাসনব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

২০১৪ সালের মে মাসেই প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷ ১২ বছর পেরিয়ে গিয়েছে ‘মোদী যুগের’৷ মোদী ম্যাজিকে ঠিক কতটা পাল্টেছে দেশ? ৭, লোককল্যান মার্গে যখন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার প্রবেশ করেন তখন ভারত ছিল বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থনীতি৷ বারো বছর পরে, ভারত বিশ্বের যষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, দেশের জিডিপি বেড়ে ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিছু ছিল ব্যাপক ও যুগান্তকারী, কিছু ছিল সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর প্রভাববাহী। সব মিলিয়ে এগুলো স্বাধীনতার পর ভারতের রাষ্ট্রচিন্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সব সিদ্ধান্ত বিতর্কমুক্ত ছিল না, কিন্তু তাদের সম্মিলিত প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই, ভারত আর শুধু বৈশ্বিক মঞ্চে আসন চায় না, বরং আলোচনার দিকনির্দেশ ঠিক করে। এই রূপান্তরের প্রতিটি ধাপ এক একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের ফল।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত জিডিপি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের নামমাত্র জিডিপি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৮ বিলিয়ন ডলারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাপানকে টপকে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে আইএমএফ-র এপ্রিল ২০২৬-এর 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' রিপোর্টে ভারতকে জাপান ও ব্রিটেনের কিছুটা পিছনে রাখা হয়েছে; যা মূলত বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। অবশ্য প্রকৃত র্যাঙ্কিং যাই হোক না কেন, ২০১৪ সালের অবস্থানের তুলনায় ভারত যে অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে দেশ।
যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় গতি
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত জিডিপি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের নামমাত্র জিডিপি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৮ বিলিয়ন ডলারে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাপানকে টপকে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে আইএমএফ-র এপ্রিল ২০২৬-এর 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' রিপোর্টে ভারতকে জাপান ও ব্রিটেনের কিছুটা পিছনে রাখা হয়েছে; যা মূলত বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। অবশ্য প্রকৃত র্যাঙ্কিং যাই হোক না কেন, ২০১৪ সালের অবস্থানের তুলনায় ভারত যে অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে দেশ।
যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় গতি
{{/usCountry}}যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও গত বারো বছরে ভারত এক অবিশ্বাস্য গতির সাক্ষী থেকেছে। খণ্ড খণ্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরনো মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে ‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি’ ও ‘ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি’-র মতো সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকাঠামো নির্মাণকে গতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে পাবলিক ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (সরকারি পুঁজি বিনিয়োগ) ছিল মাত্র ২ লক্ষ কোটি টাকা, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকায়। এই বিপুল বিনিয়োগের ফলেই দেশজুড়ে ২৬টি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হয়েছে, মেট্রো রেলের নেটওয়ার্ক ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সচল বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬৪-তে উন্নীত হয়েছে। ‘উড়ান’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য বিমানযাত্রা সাধ্যের মধ্যে আনা হয়েছে। এছাড়াও ‘অটল টানেল’, ‘সুদর্শন সেতু’ এবং জম্মু-কাশ্মীরের ‘সোনারমার্গ টানেল’-এর মতো স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দেশের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়ন
এই পরিকাঠামোগত রূপান্তরের সমান্তরালে চলেছে দেশের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়ন। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ অভিযানের হাত ধরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আজ ১৩০ কোটিতে পৌঁছেছে এবং মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৫১ কোটি ছাড়িয়েছে। ইউপিআই বা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেসের মাধ্যমে লেনদেনের আর্থিক মূল্য ২,১২৫ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা একদম প্রান্তিক স্তরের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট- সবাইকে একটি সুসংহত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে, যেখানে ৩২ কোটিরও বেশি মহিলা ‘জন ধন’ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
পারিবারিক সঞ্চয়
২০১৪ সালে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মূলত জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট ও তুলনামূলকভাবে ছোট অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে আর্থিক বাজারে আমজনতা বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে; অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ডে মাসিক এসআইপি প্রবাহ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ, ভারতীয় শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরো বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক বড় ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের তহবিল প্রত্যাহারের বা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধাক্কাও অনায়াসে পুষিয়ে দিচ্ছে এই দেশীয় বিনিয়োগ।