Blue Drum Murder Case: উত্তরপ্রদেশের মিরাটের (Meerut) চাঞ্চল্যকর ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর, বুধবার মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মুসকান রস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। মিরাট জেলা আদালতে এই মামলার শুনানি চলছিল। দু’সপ্তাহ আগে আদালত খুনের ঘটনায় মুসকান রস্তোগী ও সাহিল শুক্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে। বুধবার তাঁদের সাজা শোনানো হল।

মিরাটের ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোট ১২৬টি শুনানি হয়েছে আদালতে। ২২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। মিরাট আদালতের জেলা বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র শুনানি শেষে জানান, সৌরভকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন মুসকান এবং সাহিল। খুনের পর তাঁর দেহ লুকনোর জন্য তা নীল ড্রামে ঢুকিয়ে সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। বিচারকের মন্তব্য, এই ধরনের অপরাধ বৃহত্তর সমাজে ভীতির সৃষ্টি করে। তা বিবেচনা করেই দু’জনকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশের তদন্তে অন্যতম প্রধান প্রমাণ হয়ে উঠেছিল সিমেন্টভর্তি ওই নীল ড্রাম। আদালতের বাইরে সৌরভ রাজপুতের আইনজীবী বলেন, 'বিচারক মহাভারত থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আদালত তার কর্তব্য পালন করবে, কারণ ধর্মের অন্যতম অর্থ হল অন্যায়কারীদের শাস্তি দেওয়া।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কারাগার থেকে বিচার প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিল অভিযুক্ত মুসকান ও সাহিল। বিচারক দু’জনের কাছেই জানতে চান, সাজা ঘোষণার আগে তাদের কিছু বলার আছে কিনা। কিন্তু নিজেদের বক্তব্য জানাতে চায়নি কেউই। অন্যদিকে, আদালতের অন্দরে রায়ের সময় উপস্থিত ছিল দুই পক্ষেরই পরিবার। মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার পর কোর্টরুম চত্বর 'ভারত মাতা কি জয়' ধ্বনিতে ফেটে পড়ে। আদালতের বাইরে জয়োল্লাস শুরু হয়ে যায়। আদালতের এ দিনের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সৌরভের পরিবার। সৌরভের মা রেণু রাজপুত এবং তাঁর ভাই বলেন, ‘এই রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দু’জনেরই মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। এদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।’ আদালতের রায়ের আগে সৌরভের পরিবার দু’জনেরই মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে সৌরভের মা বলেন, ‘যে বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে চান না, তাঁরা আলাদা হয়ে যেতে পারেন; কিন্তু কারও সন্তানকে হত্যা করা উচিত নয়।’ মুসকানের বাবা-মাও লিখিত ভাবে আগেই জানিয়েছিলেন, মেয়ের মৃত্যুদণ্ড হলে তাঁরা তার বিরোধিতা করবেন না।
পুলিশের মামলা অনুযায়ী, গত বছর মার্চ মাসে খুনের পর নীল ড্রামে সৌরভ রাজপুতের দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ২০১৬ সালে সৌরভ রাজপুত ও মুসকান রাস্তোগী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পাওয়ায় খুব খুশি ছিলেন দু'জনে। স্ত্রীর সঙ্গে আরও সময় কাটানোর জন্য মার্চেন্ট নেভির চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে এরপর বাড়ি ছেড়ে মুসকানকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন সৌরভ। ২০১৯ সালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় মুসকান। কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দিন কয়েক পরেই সৌরভ জানতে পারেন, তাঁর বন্ধু সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত মুসকান। সেই সম্পর্ক ঘিরে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ডিভোর্সের পথে এগিয়েও, সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন সৌরভ। ফের নেভির চাকরি নিয়ে ২০২৩ সালে ভিন দেশে চলে যান। মেয়ের ছ'বছরের জন্মদিন উপলক্ষে গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন সৌরভ। সৌরভ দেশে ফেরার পরেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে দু'জনে।
{{/usCountry}}পুলিশের মামলা অনুযায়ী, গত বছর মার্চ মাসে খুনের পর নীল ড্রামে সৌরভ রাজপুতের দেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ২০১৬ সালে সৌরভ রাজপুত ও মুসকান রাস্তোগী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রেমের সম্পর্ক পরিণতি পাওয়ায় খুব খুশি ছিলেন দু'জনে। স্ত্রীর সঙ্গে আরও সময় কাটানোর জন্য মার্চেন্ট নেভির চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে এরপর বাড়ি ছেড়ে মুসকানকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন সৌরভ। ২০১৯ সালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় মুসকান। কিন্তু সেই সুখের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দিন কয়েক পরেই সৌরভ জানতে পারেন, তাঁর বন্ধু সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত মুসকান। সেই সম্পর্ক ঘিরে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ডিভোর্সের পথে এগিয়েও, সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন সৌরভ। ফের নেভির চাকরি নিয়ে ২০২৩ সালে ভিন দেশে চলে যান। মেয়ের ছ'বছরের জন্মদিন উপলক্ষে গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন সৌরভ। সৌরভ দেশে ফেরার পরেই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে দু'জনে।
{{/usCountry}}২০২৫ সালের ৩ মার্চ মুসকান রাস্তোগী তাদের ইন্দ্র নগরের বাড়িতে খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁর স্বামী সৌরভ রাজপুতকে অচেতন করে। এর কিছুক্ষণ পরেই তার প্রেমিক সাহিল শুক্লা সেখানে পৌঁছয় এবং তারা দু’জন মিলে রাজপুতকে ছুরির কোপ মেরে হত্যা করার পরে বাথরুমে তাঁর দেহ ১৫ টুকরো করে ফেলে। তদন্তে প্রকাশ পায়, প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা খণ্ডিত দেহের অংশগুলি একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে, সেটিতে বালি, জল ও সিমেন্টের মিশ্রণ ভরে মুখ বন্ধ করে দেয়। পরদিন তারা দু’জন হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যায়। এদিকে, সৌরভের সঙ্গে দীর্ঘদিন ফোনে কথা না হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তখনই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। স্ত্রী ও বন্ধুকে আটক করে জেরা শুরু করে তারা। পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেয় তারা।