UPI New Rules: ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের ওপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বসানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয় বরং পাঁচ বছর আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও নতুন ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হবে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতি দিয়ে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) জানিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইয়ের নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনে বসানো হবে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর। তবে এই মাশুল কেবলমাত্র ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রাহকদের জন্য এবং ২,০০০ টাকা পর্যন্ত সমস্ত লেনদেনের জন্য ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই সম্পূর্ণ বিনামূল্যই থাকবে। ইউপিআই মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট কাঠামো প্রকাশ করেছে ইউপিআইয়ের লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। দু’হাজার টাকার বেশি মার্চেন্ট লেনদেনের উপর ০.৪ শতাংশ হারে এমডিআর প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি, রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি খাত, কৃষি উপকরণ ইত্যাদি খাতে ২,০০০ টাকার বেশি প্রতিটি লেনদেনের জন্য ৫ টাকা এমডিআর দিতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুসারে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির টাকা পাঠানোও পুরোপুরি বিনামূল্যেই থাকবে। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রেও কোনও মাশুল নেই। কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ লক্ষ পর্যন্ত আয় করা ছোট ব্যবসায়ীদেরও কোনও এমডিআর দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের দাবি, নতুন কাঠামোয় প্রায় ৯৬ শতাংশ পি-টু-এম লেনদেনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এমডিআর কেবল নির্দিষ্ট মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে প্রযোজ্য হবে। অর্থ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এমডিআর কোনও কর নয় এবং এই টাকা কেন্দ্র বা এনপিসি-র কাছে জমা হবে না। ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাপ পরিষেবা প্রদানকারী-সহ ইউপিআই ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই অর্থ বণ্টিত হবে। ইউপিআই পরিকাঠামোর পরিচালনা ও সম্প্রসারণের খরচ মেটানোই এর উদ্দেশ্য। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় ইউপিআই স্টিয়ারিং কমিটির আলোচনার পর এই কাঠামো তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, পাঁচ বছর আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ডিজিটাল ব্যবস্থা মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই এমডিআর কার্যকর করা হবে। মোট লেনদেনের মাত্র ৪ শতাংশের ওপর এই চার্জ প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় সূত্রের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ বা ছোট ব্যবসায়ীদের উপর নতুন ব্যবস্থার প্রভাব পড়বে না। আপাতত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার কোনও পরিকল্পনা নেই।
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, পাঁচ বছর আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ডিজিটাল ব্যবস্থা মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই এমডিআর কার্যকর করা হবে। মোট লেনদেনের মাত্র ৪ শতাংশের ওপর এই চার্জ প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় সূত্রের বক্তব্য, সাধারণ মানুষ বা ছোট ব্যবসায়ীদের উপর নতুন ব্যবস্থার প্রভাব পড়বে না। আপাতত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার কোনও পরিকল্পনা নেই।
{{/usCountry}}এদিকে, ইউপিআই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন, ‘বিনামূল্যের ইউপিআই’-এর জায়গায় এখন ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যের লেনদেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেমেন্ট কোম্পানিগুলি গোড়া থেকেই ভারতের জিরো-এমডিআর নীতির বিরোধিতা করে আসছে। সেই পথেই নীতি পরিবর্তনের সুযোগ করে দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে ঠিক যেমনটা ঘটেছিল, আবারও আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন প্রধানমন্ত্রী।’ বিরোধীদের এই আক্রমণকে ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, '৯৬ শতাংশ ইউপিআই মার্চেন্ট লেনদেন ২ হাজার টাকা বা তার কম এবং সেগুলি পুরোপুরি মাশুলমুক্তই থাকবে।'