...
...
Next Story

Pune News: দুর্ঘটনা নয়, ঠান্ডা মাথার খুন! গভীর গিরিখাতে পুণের যুবককে ধাক্কা বাগদত্তার

Pune News: গাহুঞ্জের বাসিন্দা এবং পারিবারিক রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কেতন বিশাল আগরওয়াল গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাগদত্তা ও দুই বন্ধুকে নিয়ে মাভাল তহসিলের এক মনোরম পাহাড়ি দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাগদত্তার জন্মদিনের আগের মুহূর্তটি আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।

Published on: Jun 23, 2026, 17:29:20 IST
Advertisement

Pune News: বিয়ের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। তার আগে বাগদত্তা ও বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে প্রাণ হারালেন পুণের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি এক তরুণ। সূত্রের খবর, বন্ধুদের সঙ্গে বাগদত্তার আসন্ন জন্মদিনের উৎসব উদযাপন করতে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন বিশাল আগরওয়াল নামের তরুণ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে তাঁর। প্রায় ৩৫০ ফুট নীচে এক গভীর গিরিখাতে পড়ে যান তরুণ। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি আসলে এক ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্তকারীদের অনুমান, কেতন আগরওয়ালকে তাঁরই বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে দুর্গের ওপর থেকে গভীর গিরিখাতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল।

দুর্ঘটনা নয়, ঠান্ডা মাথার খুন! (সৌজন্যে টুইটার)
দুর্ঘটনা নয়, ঠান্ডা মাথার খুন! (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশের দাবি, গত ১৯ জুন কেতনের এই মৃত্যু আসলে সিয়া এবং চেতনের নেওয়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ছিল। এর ঠিক পাঁচ দিন আগে হুবহু একই কায়দায় কেতনকে খুনের একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় তাঁদের। তবে দুটি ক্ষেত্রেই এই যুগলের মূল উদ্দেশ্য ছিল খুনকে কোনওভাবে একটি নিছক 'দুর্ঘটনা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। গাহুঞ্জের বাসিন্দা এবং পারিবারিক রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কেতন গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাগদত্তা ও দুই বন্ধুকে নিয়ে মাভাল তহসিলের এক মনোরম পাহাড়ি দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাগদত্তার জন্মদিনের আগের মুহূর্তটি আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কিন্তু যে ভ্রমণটি সুখের স্মৃতি হয়ে থাকার কথা ছিল, তা আচমকাই এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বদলে যায় শোক ও আতঙ্কে। প্রায় ৩৫০ ফুট গভীর গিরিখাতে পড়ে মৃত্যু হয় কেতন আগরওয়ালের।

এরপর সিয়া গত ১৯ জুন লোহাগড় দুর্গে ফের আরেকটি ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা করে। অভিযোগ, সেই সময় চেতন চৌধুরীকে পেছন থেকে নিঃশব্দে নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে নেওয়া হয় এবং দুজনে মিলে কেতন আগরওয়ালকে দুর্গ থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি কোনও দুর্ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে কেতন আগরওয়ালের পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, বিয়ের আগে ওই যুগলের ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘুরতে যাওয়ার সময় সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর, যাত্রাপথেই সিয়া আচমকা কেতনকে জানায় যে তিনি পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের বালির ট্রিপ বাতিল করতে হয়েছিল। পারিবারিক সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের জন্য মহাবালেশ্বরের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে কেতন প্রায় ৪০টি ঘর বুকিং করেছিলেন এবং এক জমকালো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগেই সিয়া লোহাগড় দুর্গে একটি প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা ফাঁদে। কেতনের মৃত্যু কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তাঁকে খুন করা হয়েছে-পুলিশের কাছ থেকে এই তথ্য জানতে পেরে স্তম্ভিত পুরো পরিবার। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা গেছে, বালি ট্রিপ ভেস্তে দেওয়ার জন্য সিয়া নিজেই একটি হোটেলে প্রাতরাশ করার সময় সেখানকার ওয়াশরুমে গিয়ে নিজের পাসপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলে কমোডে ফ্লাশ করে দিয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেতনের বাগদত্তা সিয়া বেশ কিছু তথ্য গোপন করছে বলে সন্দেহ হতেই এই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। এরপরই পুলিশ সিয়ার মোবাইলের কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। উল্লেখ্য, এই যুগলের বিয়ের ঠিক কিছুদিন আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। গত ১৯ জুন ছিল সিয়ার জন্মদিন এবং বিয়ে ঠিক হওয়ার পর এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করতেই কেতন এই ট্রিপের আয়োজন করেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কেতনের পরিবার জয়পুরে এক রাজকীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল; যার জন্য একটি প্রাসাদ বুকিং করার পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এলাহি ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ঘটনাটি যখন প্রথম সামনে আসে, তখন পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল-গিরিখাতের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি বা সেলফি তোলার সময় ভারসাম্য হারিয়েই নিচে পড়ে যান কেতন। ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর শরীরে মারাত্মক চোট লেগেছিল এবং প্রথম দিকে পুলিশ একটি ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবেই নথিভুক্ত করেছিল। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পরবর্তীতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় তাঁদের মনে গভীর সন্দেহের হয়, যা শেষ পর্যন্ত এই মামলাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ খুনের তদন্তের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe