Supreme Court: তফশিলি জাতি (SCs), তফশিলি উপজাতি (STs) এবং অন্যান্য অনুন্নত শ্রেণির (OBCs) সংরক্ষণের মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকাদের জন্য 'সাব কোটা'র (Sub-Quota) ব্যবস্থা হোক। এই মর্মে আবেদন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সেই আবেদনের বিরোধিতা করল কেন্দ্রীয় সরকার (Union government)। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই শ্রেণিগুলির জন্য চালু সংরক্ষণে কোনও বিশেষ আর্থিক মানদণ্ড বা পারিবারিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বিবেচনা করা হবে না।

তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি)-র সংরক্ষণ ব্যবস্থায় 'ক্রিমি লেয়ার' নীতি চালুর দাবির বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দাখিল করা হলফনামায় কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশে কার্যকর করা যায় না। এমন কোনও পদক্ষেপের আগে বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক সমীক্ষা ও সামগ্রিক পর্যালোচনা জরুরি। সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন দফতরের মাধ্যমে দাখিল করা এক হলফনামায় কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলিতে দেশের সংরক্ষণ নীতি পুনর্বিন্যাসের জন্য বিচার বিভাগীয় নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এটি মূলত নির্বাহী ও আইন বিভাগের এক্তিয়ারভুক্ত একটি বিষয় এবং সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে কোনও নির্দেশ জারি করতে পারে না।
রামশঙ্কর প্রজাপতি, আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়, ‘সমতা আন্দোলন সমিতি’ এবং অন্যান্যদের দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদনের প্রেক্ষিতে এই হলফনামাটি দাখিল করা হয়। আবেদনকারীরা এসসি, এসটি, ওবিসি এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি-র আওতাভুক্ত ক্যাটাগরিগুলির মধ্যে আয়-ভিত্তিক অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালুর জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেন। তারা এই ক্যাটাগরিগুলির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিভাগ করারও দাবি জানিয়েছেন, যাতে সংরক্ষণ-জনিত সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পান। এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্র জানিয়েছে যে, সংবিধানের ৩৪১, ৩৪২ ও ৩৪২এ অনুচ্ছেদের আওতায় থাকা সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, শুধুমাত্র আয়ের ভিত্তিতে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং সামাজিকভাবে ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর (SEBC) তালিকা পরিবর্তন করার কোনও সুযোগ নেই। হলফনামায় বলা হয়েছে যে, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাভুক্তির বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে নয়, বরং জাতি, উপজাতি ও সামাজিক অনগ্রসরতার মতো ঐতিহাসিক ও সামাজিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
হলফনামায় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে কেন্দ্র জানায়, ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ইন্দ্রা সহানি মামলায় সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছিল, 'ক্রিমি লেয়ার' নীতি শুধুমাত্র ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসসি ও এসটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই নীতির প্রাসঙ্গিকতা নেই। পরবর্তী বিভিন্ন রায়েও একই অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনগুলিকে ‘ভুল ধারণাপ্রসূত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, এগুলিতে এমন কোনও সাংবিধানিক বা মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন করা হয়নি যা কার্যকর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারের মতে, আবেদনকারীরা মূলত সরকারকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে বাধ্য করার নির্দেশ চাইছেন, যা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতাভুক্ত নয়। এই মামলাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উল্লেখ করে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টকে আবেদন খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে।
{{/usCountry}}হলফনামায় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে কেন্দ্র জানায়, ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ইন্দ্রা সহানি মামলায় সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছিল, 'ক্রিমি লেয়ার' নীতি শুধুমাত্র ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসসি ও এসটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই নীতির প্রাসঙ্গিকতা নেই। পরবর্তী বিভিন্ন রায়েও একই অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনগুলিকে ‘ভুল ধারণাপ্রসূত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে যে, এগুলিতে এমন কোনও সাংবিধানিক বা মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন করা হয়নি যা কার্যকর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারের মতে, আবেদনকারীরা মূলত সরকারকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে বাধ্য করার নির্দেশ চাইছেন, যা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতাভুক্ত নয়। এই মামলাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উল্লেখ করে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টকে আবেদন খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে।
{{/usCountry}}