...
...
Next Story

Uttarakhand: ভূমিকম্পের আশঙ্কা! উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের ভূ-গর্ভে নীরবে জমা হচ্ছে প্রবল শক্তি, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

Uttarakhand: উত্তরাখণ্ড এলাকাটি মধ্য হিমালয় সিসমিক গ্যাপের অংশ, যেখানে গত ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বড় ধরনের কোনও বড় ভূমিকম্পের ফলে শক্তি নির্গত হয়নি।

Published on: Oct 21, 2026, 22:23:44 IST
Advertisement

Uttarakhand: উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের মাটির গভীরে ক্রমাগত চাপ সঞ্চিত হচ্ছে। যার জেরে ওই ভূগর্ভস্থ অঞ্চলে প্রতি ১০০ বছরে প্রায় ৮.১ মাত্রার এক-একটি ভূকম্পন তৈরি হওয়ার মতো বিশাল শক্তির সঞ্চয় ঘটছে। একদল গবেষকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এই।

ভূমিকম্পের আশঙ্কা! উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের ভূ-গর্ভে নীরবে জমা হচ্ছে প্রবল শক্তি, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভূমিকম্পের আশঙ্কা! উত্তরাখণ্ড হিমালয়ের ভূ-গর্ভে নীরবে জমা হচ্ছে প্রবল শক্তি, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই মধ্য হিমালয় অঞ্চলকে বড় ধরনের ‘সিসমিক গ্যাপ’ বা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। এই গবেষণার ফলাফল শুধু উত্তরাখণ্ড বা পার্বত্য অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং সংলগ্ন সিন্ধু-গঙ্গার সমভূমি অঞ্চলের জন্যও অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলির একটি। ‘এভিডেন্স অব স্ট্রং প্লেট কাপলিং ইন দ্য উত্তরাখণ্ড হিমালয়াজ: কনস্ট্রেন্টস ফ্রম জিএনএসএস অ্যান্ড এলওএস-২ ইনসার অবজারভেশনস’ শীর্ষক এই গবেষণাটি চালিয়েছেন সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব তামিলনাড়ুর দিব্যশক্তি পণ্ডা, মৃদুল যাদব, এরিক ও লিন্ডসে এবং জি শ্রীনিবাস রাও। গবেষকরা গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (GNSS) স্টেশন এবং জাপানের 'ALOS-2' মিশন থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট রাডার পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষস্থলে অবস্থিত প্রধান হিমালয়ান থ্রাস্টের (MHT) আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।

তাঁদের বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, সেখানে প্রতি বছর প্রায় ১৮ মিলিমিটার গতিতে স্লিপ ডেফিসিট বা ফাটল পিছলে যাওয়ার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এর অর্থ হল, টেকটোনিক প্লেটগুলির নিরবচ্ছিন্ন স্থানান্তরের কারণে যে গতি তৈরি হচ্ছে, তা সহজভাবে ফাটল বেয়ে বেরিয়ে যেতে পারছে না। গবেষকদের অনুমান, প্রধান হিমালয়ান থ্রাস্টের প্রায় ১১৫ কিলোমিটার চওড়া একটি অংশ সম্পূর্ণ লকড বা রুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যেহেতু ভারতীয় প্লেটটি ক্রমাগত ইউরেশীয় প্লেটের দিকে ঠেলছে, তাই অবরুদ্ধ পাথরে স্থিতিস্থাপক চাপ (Elastic strain) জমা হচ্ছে, যা বড় কোনও ভূকম্পনের মাধ্যমেই মুক্ত হতে পারে।

স্যাটেলাইট রাডার পর্যবেক্ষণে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন

উত্তরাখণ্ড এলাকাটি মধ্য হিমালয় সিসমিক গ্যাপের অংশ, যেখানে গত ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বড় ধরনের কোনও বড় ভূমিকম্পের ফলে শক্তি নির্গত হয়নি। যদিও এই গবেষণা ভবিষ্যৎ ভূকম্পনের সঠিক সময়সূচি বা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করে না, তবে ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলে সঞ্চিত শক্তি কতখানি ভয়াবহ হতে পারে, এই সমীক্ষা তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা জারি করেছে। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের ভূগর্ভে টেকটোনিক প্লেটগুলি কতটা শক্তভাবে আটকে বা লকড (Plate Locking) হয়ে রয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ ছিল। এই ভিন্নমতের কারণেই এই এলাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন সামনে এসেছে।

তবে গবেষকদের সাম্প্রতিক হিসেবে অনুযায়ী, এই অঞ্চলে যে পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, তা প্রতি এক শতাব্দী বা ১০০ বছরে প্রায় ৮.১ মাত্রার এক বিধ্বংসী 'মেগাথ্রাস্ট' ভূমিকম্পের মাধ্যমে নির্গত হওয়া মোট শক্তির সমতুল্য। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এটি কেবল ভূগর্ভে জমে থাকা শক্তির একটি বৈজ্ঞানিক পরিমাপ মাত্র। এর অর্থ কোনওভাবেই এমন নয় যে কোনও নির্দিষ্ট সময় বা বাঁধাধরা সূচি অনুযায়ী ঠিক ওই মাত্রারই ভূমিকম্প ঘটবে। পরবর্তী বড় ধরনের ভূমিকম্পটি কবে বা ঠিক কোন সময়ে আঘাত হানবে—সে বিষয়ে এই গবেষণা কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেনি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks