Indian Army: ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাকবিধিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনা হল। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা একাধিক পোশাক-সংক্রান্ত রীতি ও প্রতীক সরিয়ে নতুন ইউনিফর্ম কোড চালু করেছে সেনাবাহিনী। ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ নামে প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় ভারতীয় ঐতিহ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ও ব্যবহারিক ভাবনাকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেনা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক পোশাকে এবার থেকে বন্দি জ্যাকেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই পোশাককে সেনার আনুষ্ঠানিক ড্রেস কোডে অন্তর্ভুক্ত করাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঔপনিবেশিক আমলের বেশ কিছু প্রতীকী উপাদানও বাদ দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নতুন নির্দেশিকায় প্যারেড ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তলোয়ার বহনের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই এটি বাধ্যতামূলক ছিল। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তলোয়ার বহন ঐচ্ছিক হবে। পাশাপাশি বহু ক্ষেত্রে সেরিমোনিয়াল পাউচ বেল্ট ব্যবহারের প্রথাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সেনার পোশাকবিধি থেকে ‘রয়্যাল’ শব্দসহ ব্রিটিশ শাসনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি পরিভাষাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনা সূত্রের মতে, স্বাধীনতার আট দশক পরও রয়ে যাওয়া ঔপনিবেশিক ছাপ মুছে ফেলে ভারতীয় পরিচিতিকে আরও সুস্পষ্ট করাই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মহিলা সেনা কর্মকর্তাদের জন্যও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শাড়ি কিংবা কুর্তা-সালওয়ারের মতো ভারতীয় পোশাকের অনুমতি থাকলেও পোশাকের ধরন, রং এবং উপস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচর্যা, ট্যাটু, অলঙ্কার, প্রসাধনী ব্যবহার এবং গোঁফ-দাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কেও বিস্তারিত নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}মহিলা সেনা কর্মকর্তাদের জন্যও নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। শাড়ি কিংবা কুর্তা-সালওয়ারের মতো ভারতীয় পোশাকের অনুমতি থাকলেও পোশাকের ধরন, রং এবং উপস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচর্যা, ট্যাটু, অলঙ্কার, প্রসাধনী ব্যবহার এবং গোঁফ-দাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কেও বিস্তারিত নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র পোশাক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক। দেশীয় ঐতিহ্য, আধুনিকতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নতুন ইউনিফর্ম কোড প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।