...
...
Next Story

ভোলারির হ্যাঙ্গার রহস্য: একটি 'মিথ্যা' কীভাবে সফল করেছিল বায়ুসেনার গোপন মিশন?

Operation Sindoor: লক্ষ্যবস্তু ভোলারির বিমানঘাঁটিতে ছিল আপাতদৃষ্টিতে আলাদা করা একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল যে সেই হ্যাঙ্গারের ভেতরে রয়েছে-সুইডেনের তৈরি ‘সাব এরিয়েই’, যা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশপথে আগাম নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান।

Published on: Aug 20, 2026, 15:25:12 IST
Advertisement

Operation Sindoor: ২০২৫ সালের ১০ মে-র সকাল। পাকিস্তান ভূখণ্ডে তখন তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছে ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF)। সংঘাতের পারদ চরমে উঠতেই 'অপারেশন সিঁদুর'-এর আওতায় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটিতে একের পর এক মারাত্মক আঘাত হানছে ভারত। ঠিক এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের (SWAC) দায়িত্বে থাকা এয়ার মার্শাল এক কঠিন ধর্মসংকটের মুখোমুখি হন। এমনটাই দাবি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে।

একটি 'মিথ্যা' কীভাবে সফল করেছিল বায়ুসেনার গোপন মিশন? (PTI)
একটি 'মিথ্যা' কীভাবে সফল করেছিল বায়ুসেনার গোপন মিশন? (PTI)

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামনে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন উড়ানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিশানা-গান্ধীনগরে অবস্থিত এসডব্লিউএসি (SWAC) সদর দফতর থেকে ৫২০ কিলোমিটার উত্তরে পাকিস্তানের 'ভোলারি এয়ারবেস (Pakistan Bholari)।' এয়ার মার্শালের কমান্ডের অধীনে থাকা কোনও এক প্রথম সারির বিমানঘাঁটিতে-হোক তা ভুজ, জয়সলমীর, ফলোডি, নালিয়া, জামনগর, যোধপুর, উত্তরলাই/বারমের কিংবা পুনে-যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসে তখন উড়ানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ভারতীয় ফাইটার পাইলটদের একটি দল। তবে ঠিক কোন বেস থেকে এই যুদ্ধবিমানগুলো ওড়ার অপেক্ষায় ছিল, তা কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেনি বায়ুসেনা।

লক্ষ্যবস্তু ভোলারির বিমানঘাঁটিতে ছিল আপাতদৃষ্টিতে আলাদা করা একটি বিশেষ হ্যাঙ্গার। ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল যে সেই হ্যাঙ্গারের ভেতরে রয়েছে-সুইডেনের তৈরি 'সাব এরিয়েই' (SAAB Erieye), যা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আকাশপথে আগাম নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান (AWACS)। ঠিক সেই চূড়ান্ত মুহূর্তেই বেজে ওঠে এয়ার মার্শালের ফোন। অপর প্রান্তে ছিলেন স্বয়ং বায়ুসেনা প্রধান (Air Chief)।কিন্তু কেন এই ফোন? তবে কী কোনও পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে চলেছে? সমস্ত সিস্টেম চালু করে ককপিটে চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকা পাইলটদের কী তবে মিশন বাতিল করে নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে? কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে একেবারে অটল ছিলেন এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর। কোনও অবস্থাতেই নিজের পাইলটদের এমন ঐতিহাসিক ও নিখুঁত মিশন পরিচালনা করা থেকে বঞ্চিত করতে রাজি ছিলেন না তিনি।

যুদ্ধবিমানের ককপিটে বসে থাকা পাইলটরা তাঁদের গোটা কর্মজীবন ধরে যেন এই একটি মাত্র মুহূর্তেরই অপেক্ষায় ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর মহড়া ও ট্রেনিং আজ এক চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে। যুদ্ধবিমানগুলোতে সম্পূর্ণ অস্ত্র বোঝাই, জ্বালানি ট্যাঙ্কের শেষ লিটার পর্যন্ত ভর্তি। চেকলিস্ট একবার নয়, বারবার মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে-কারণ এই মুহূর্তে একটা সামান্য ভুলের অর্থ শুধুই কোনও সাধারণ ভুল নয়, তার পরিণতি হতে পারে শহিদ স্মারকের দেয়ালে একটি নতুন নাম খোদাই হওয়া। রানওয়ের টারম্যাকে তখন থমথমে চরম উত্তেজনা। ককপিটের ভেতরে পাইলট ও ওয়েপন সিস্টেম অপারেটরদের (WSO) মধ্যে ফিসফিস করে চলছে বার্তা আদান-প্রদান-অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, পেশাদার এবং আবেগহীন, যদিও তাঁদের দ্রুত চলা হৃদস্পন্দন বলে দিচ্ছিল ভেতরের আসল উত্তেজনার কথা। ক্যানোপি নেমে এসেছে, সচল হয়ে উঠেছে সমস্ত যুদ্ধ সরঞ্জাম ও সিস্টেম। আর এই ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরাক্রমশালী যুদ্ধবিমান-'সুখোই-৩০ এমকেআই' (Sukhoi-30 MKI)।

রাশিয়ায় নকশা তৈরি হলেও ভারতে ব্যাপকভাবে আধুনিকীকরণ করা সুখোই যুদ্ধবিমানে মোতায়েন ছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) অন্যতম প্রধান অস্ত্র-শব্দের চেয়ে তিন গুণ দ্রুতগতিসম্পন্ন (ম্যাক ৩) আকাশ-থেকে-স্থল ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্র, যার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ৩০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। টানটান সেই মুহূর্তে বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং ফের জানতে চেয়েছিলেন, 'ওরা এখন কোথায়?' জবাবে এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর বলেন, 'স্যর, মিসাইল লঞ্চ থেকে আর মাত্র আধ ঘণ্টা দূরে।' যদিও তিনি ভালো করেই জানতেন যে যুদ্ধবিমানগুলো তখনও নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছায়নি। এ প্রসঙ্গে কাপুর বলেন, 'কিন্তু আমাকে ওদের ছাড়তেই হতো। পাইলটরা দীর্ঘ সময় ধরে উইংসে অস্ত্র ঝুলিয়ে স্রেফ নির্দেশের অপেক্ষায় বসে ছিল। সেই মুহূর্তে তাদের যেতে না দেওয়াটা আমার পক্ষে অপরাধের সমান হতো।' সবুজ সংকেত মিলতেই রানওয়ে কাঁপিয়ে তীব্র গতিতে আকাশে ডানা মেলে সুখোইয়ের বহর, এগিয়ে যায় নির্দিষ্ট লঞ্চ জোনের দিকে। ককপিটে তখন একের পর এক অস্ত্র ক্যালিবারেট করা হচ্ছে; পাক যুদ্ধবিমানের কোনও হুমকি রয়েছে কিনা তা স্ক্যান করে চলেছে নজরদারি রাডার। শত্রুপক্ষের কোনও রাডার ট্র্যাক করলেই সতর্কবার্তা দিতে প্রস্তুত ককপিটের রাডার ওয়ার্নিং রিসিভার।

নাগেশ কাপুর জানান, 'অবশেষে যখন মিসাইল নিক্ষেপ করা হলো, আমি চিফকে জানালাম-স্যর, সব মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে, বিমানগুলো ফিরে আসছে। চিফ শুধু বললেন, 'ওরা ল্যান্ড করলে আমাকে জানাবেন।' সম্পূর্ণ সফল হয় এই বিপজ্জনক মিশন। পাকিস্তানের ভোলারি বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গারে বায়ুসেনার এই নিখুঁত আঘাত ছিল ১০ মে-র পুরো অভিযানের অন্যতম প্রধান প্রতীক। এনডিটিভি-তে প্রথম সম্প্রচারিত উপগ্রহচিত্রে (Satellite) স্পষ্ট ধরা পড়ে সেই ধ্বংসলীলা-হ্যাঙ্গারের ছাদে তৈরি হয়েছিল এক বিশাল গর্ত, ভেঙে পড়েছিল ভেতরের পরিকাঠামো এবং তীব্র বিস্ফোরণের অভিঘাতে হ্যাঙ্গার ও রানওয়ের মধ্যবর্তী অ্যাপ্রন জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল ধ্বংসাবশেষ। আঘাতটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আশেপাশে কোনও ক্ষতি হয়নি।

এই রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছিল আরও এক নাটকীয় দৃশ্যে। এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুর স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'অনেক দিন পর যখন মাননীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী [রাজনাথ সিং] আমাদের ঘাঁটিতে এসেছিলেন এবং আমরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেছিলাম-একই টেবিলে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং বায়ুসেনা প্রধানও। ঠিক তখনই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামনেই আমি চিফকে বলেছিলাম, 'স্যর, সেদিন আমি আপনার সঙ্গে মিথ্যা বলেছিলাম।' শুনে তৎকালীন এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং একগাল হেসে এয়ার মার্শাল কাপুরের দিকে তাকিয়ে জবাব দিয়েছিলেন, 'মুঝে পতা হ্যায়' (আমি জানি)!

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe