...
...
Next Story

'জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই!' PM মোদীর 'প্রস্তুতি' বার্তার পরই তেল সংস্থাগুলির আশ্বাস

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

Published on: Mar 25, 2026, 17:41:33 IST
Advertisement

ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সঙ্কট। ইতিমধ্যে ভারতেও রান্নার গ্যাসের দাম একবার বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সিলিন্ডার বুকিং নিয়ে আনা হয়েছে একাধিক নিয়মাবলী। উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এই আবহে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি জানাল, দেশে পেট্রল ও ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারতে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।

তেল সংস্থাগুলির আশ্বাস (@HardeepSPuri)
তেল সংস্থাগুলির আশ্বাস (@HardeepSPuri)

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী, এই প্রণালী ব্যবহার করতে চাইলে জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে এক ইরানি আইনপ্রণেতা। আরও হামলার আশঙ্কায় 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার পর থেকে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে। এই পরিস্থিতি ভারতের মতো দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ করবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এমনকী কেউ কেউ লকডাউনের মতো কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে কিনা, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

তেল সংস্থাগুলি গুজব উড়িয়ে দিয়েছে

এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড জনসাধারণকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজবে কান না দিতে এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে জ্বালানি-গ্যাস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে বিপিসিএল জানিয়েছে, পেট্রল ও ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দেশের সর্বত্র জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, তারা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন ভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২০ সালের মার্চ মাসের ২৪ তারিখটা কেউই হয়তো ভোলেননি। ওই দিন ঠিক রাত আটটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ঘোষণায় ‘গৃহবন্দি জীবন’ শুরু হয় দেশবাসীর। করোনা ভাইরাসের দাপটে হঠাৎ করেই বদলে যায় পুরো জীবন। মানুষ বুঝতে পারেন ‘লকডাউন’, ‘সোশ্যাল ডিসটেন্স’, ‘কোয়ারেনটাইন’, ‘আইসোলেশন’, ‘নিউ নরমাল’ শব্দগুলি আসলে কী। চার বছর পেরিয়ে আবারও লকডাউনের আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দেশবাসীর একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই নতুন করে সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলির স্মৃতি ভেসে উঠেছে আমজনতার মনে। ভারতে ফের ট্রেন্ডিং সার্চের তালিকায় উঠে এসেছে ‘লকডাউন।' যুদ্ধ আবহে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী ও যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের সঙ্কট কী আবার লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে? উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখে কোভিডকালের প্রসঙ্গও।

সোমবার লোকসভায় ইরান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময়ে পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক, তা বোঝাতে কোভিডের প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাকালের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলের এখন একজোট হয়ে সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন, ঠিক যেমনটা আমরা কোভিডের সময়ে করেছিলাম।’ দেশে এলপিজি-সঙ্কট পরিস্থিতি বোঝাতেই এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত একাধিক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী গ্যাস ও তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে জনগণকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe