উৎসবের মরসুমে ঋণগ্রাহকদের জন্য এল অস্বস্তির খবর। রেপো রেট বাড়িয়ে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআই। বুধবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে রেপো রেট। ৫.২৫ শতাংশ থেকে তা বেড়ে হল ৫.৫০ শতাংশ। প্রায় চার বছর পর ফের রেপো রেট বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে আরবিআই। তবে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাড়ি, গাড়ি এবং ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া মানুষের উপর।

প্রথমে বুঝে নেওয়া যাক রেপো রেট কী। ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্প মেয়াদে যে সুদে টাকা ধার দেয় আরবিআই, সেটিই রেপো রেট। এই হার বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির জন্য টাকা জোগাড়ের খরচ বাড়ে। তার প্রভাব অনেক সময় ঋণের সুদের উপর পড়ে। বিশেষ করে যাঁদের ফ্লোটিং রেট বা পরিবর্তনশীল সুদের ঋণ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে কি সঙ্গে সঙ্গেই সবার ইএমআই বেড়ে যাবে? উত্তরটা একেবারে সরল নয়। কোন ঋণ কোন বেঞ্চমার্কের সঙ্গে যুক্ত, তার উপর নির্ভর করবে। নতুন করে ঋণ নেওয়া হলে সুদের হার বাড়তে পারে। পুরনো ফ্লোটিং রেটের ঋণেও সুদ বাড়তে পারে। তখন ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী মাসিক ইএমআই বাড়তে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ইএমআই একই রেখে ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে গ্রাহককে শেষ পর্যন্ত বেশি সুদ দিতে হবে।
একটি হিসাব নিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার। ধরুন, ৫০ লক্ষ টাকার ২০ বছরের গৃহঋণে সুদের হার ৮.৫০ শতাংশ। মাসিক ইএমআই প্রায় ৪৩,৩৯১ টাকা। সুদ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৮.৭৫ শতাংশ হলে একই মেয়াদে ইএমআই দাঁড়ায় প্রায় ৪৪,১৮৬ টাকা। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৭৯৪ টাকা বেশি। বছরে চাপ প্রায় ৯,৫০০ টাকা। ঋণের অঙ্ক আরও বেশি হলে পার্থক্যও বাড়বে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ল মানেই প্রত্যেক ব্যাঙ্ক আপনার ঋণের সুদ ঠিক ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে, এমন নয়। ঋণের বেঞ্চমার্ক, ব্যাঙ্কের স্প্রেড এবং পুনর্নির্ধারণের নিয়মের উপর প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করবে। তাই ইএমআই কতটা বাড়বে, তা জানতে নিজের ঋণের সুদের কাঠামো দেখা জরুরি।
{{/usCountry}}তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ল মানেই প্রত্যেক ব্যাঙ্ক আপনার ঋণের সুদ ঠিক ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে, এমন নয়। ঋণের বেঞ্চমার্ক, ব্যাঙ্কের স্প্রেড এবং পুনর্নির্ধারণের নিয়মের উপর প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করবে। তাই ইএমআই কতটা বাড়বে, তা জানতে নিজের ঋণের সুদের কাঠামো দেখা জরুরি।
{{/usCountry}}সবচেয়ে বেশি চিন্তা গৃহঋণগ্রাহকদের। কারণ গৃহঋণ সাধারণত বড় অঙ্কের এবং দীর্ঘ মেয়াদের হয়। সামান্য সুদ বাড়লেও ১৫, ২০ বা ২৫ বছরের হিসাবে মোট সুদের খরচ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। গাড়ি ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরবিআই অবশ্য শুধু ঋণগ্রাহকদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় না। তাদের প্রধান লক্ষ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আর্থিক স্থিতি বজায় রাখা। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, বিশ্ব বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ছে। তেলের দাম, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দুর্বল টাকার জোগান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি ৪.৮২ শতাংশে উঠেছে, যা আরবিআইয়ের ৪ শতাংশ লক্ষ্যের উপরে।
তবে ঋণগ্রাহকদের জন্য পুরো খবরটাই খারাপ নয়। ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কের আমানতের সুদ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন করে ফিক্সড ডিপোজিট করা গ্রাহকরা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। পুরনো এফডির ক্ষেত্রে অবশ্য সুদের হার সাধারণত মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বদলায় না।
এখন তাই ঋণগ্রাহকদের নজর রাখতে হবে নিজের ব্যাঙ্কের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। বিশেষ করে যাঁদের ফ্লোটিং রেটের গৃহঋণ রয়েছে, তাঁরা নতুন সুদের হার এবং রিসেটের তারিখ দেখে নিন। কারণ রেপো রেটের ২৫ বেসিস পয়েন্টের সিদ্ধান্ত ছোট মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের হিসাবে তার প্রভাব কিন্তু যথেষ্ট বড় হতে পারে।